বিশাখাপত্তনম, ৩০ এপ্রিল (আইএএনএস): অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের প্রতিভা-নির্ভর ইকোসিস্টেমের জোরে বিশাখাপত্তনম ধীরে ধীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইটি হাবে পরিণত হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আইটি ও জিসিসি (গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার) নীতি এবং ‘লিফট’ (ল্যান্ড ইনসেনটিভ ফর টেক হাবস)-এর মতো অগ্রগামী পদক্ষেপ, শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ, শক্তিশালী পরিকাঠামো এবং কর্মীবান্ধব নগর পরিবহণ ব্যবস্থার ফলে আইটি সংস্থাগুলির জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এই ইকোসিস্টেম-ভিত্তিক উন্নয়নের ফলে দীর্ঘদিনের প্রতিভা-পালায়নের প্রবণতা কমছে। বিশাখাপত্তনম এখন শুধু দক্ষ মানবসম্পদের উৎস নয়, বরং বিশ্বমানের সংস্থাগুলির জন্য প্রতিভা গড়ে তোলা ও ধরে রাখার কেন্দ্র হিসেবেও উঠে আসছে।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই প্রবণতাকে আরও জোরদার করে ইনফোসিস-কে বিশাখাপত্তনমে ৭,০০০ আসনবিশিষ্ট একটি কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য ২০ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে।
গত দু’বছরে সংস্থাটি এখানে তাদের কর্মীসংখ্যা দ্রুত বাড়িয়েছে—২০২৪ সালের শুরুতে যেখানে প্রায় ২৫০ জন কর্মী ছিলেন, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ১,৯০০-তে পৌঁছেছে। শীঘ্রই আরও ৭৫০ আসন চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদে ৭,০০০ কর্মী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে সংস্থার, যা এই অঞ্চলের সম্ভাবনার উপর তাদের আস্থারই প্রতিফলন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই বৃদ্ধির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল স্থানীয় প্রতিভার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংযোগ। বিশাখাপত্তনম ক্যাম্পাসে ইতিমধ্যেই ১,০০০-এর বেশি ফ্রেশার এবং প্রায় ৫০০ অভিজ্ঞ কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে, যা রাজ্যের দক্ষতা উন্নয়ন ও শিল্প-সংযুক্ত শিক্ষানীতির সাফল্য তুলে ধরে।
অন্ধ্রপ্রদেশের আইটি, ইলেকট্রনিক্স ও শিক্ষা মন্ত্রী নারা লোকেশ বলেন, “বিশাখাপত্তনমের আইটি হাব হিসেবে উত্থান আমাদের স্থানীয় প্রতিভা এবং গড়ে ওঠা ইকোসিস্টেমের শক্তির প্রতিফলন। এতদিন আমাদের যুব সমাজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে সমর্থন দিয়েছে, এখন তারা রাজ্যেই নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের লক্ষ্য একটি প্রতিভা-কেন্দ্রিক পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে শিল্প, শিক্ষা ও সরকার একসঙ্গে কাজ করবে। বিশাখাপত্তনমে ইনফোসিসের সম্প্রসারণ সেই দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রমাণ এবং অন্ধ্রপ্রদেশকে বিশ্বমানের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পথে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।”



















