আগরতলা, ৩০ এপ্রিল : ত্রিপুরা বিধানসভার একদিনের বিশেষ অধিবেশনে বৃহস্পতিবার সুর সম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে এবং প্রাক্তন মন্ত্রী কার্তিক কন্যা দেববর্মার প্রয়াণে স্মৃতিচারণ করা হয়েছে।
এদিন স্মৃতিচারণে অধ্যক্ষ রামপদ জমাতিয়া বলেন, আমি গভীর শোক ও বেদনা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এই সভাকে অবহিত করছি, ত্রিপুরা বিধানসভার প্রাক্তন সদস্যা তথা ত্রিপুরা সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী কার্তিক কন্যা দেববর্মা আর আমাদের মধ্যে নেই। গত ৩০ মার্চ বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ আগরতলার ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৭২ বছর।
তিনি বলেন, শ্রীমতি দেববর্মা ১৯৫৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সমাজসেবামূলক কার্যকলাপ ও বামপন্থী গণ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৩ সালে ত্রিপুরা বিধানসভার নির্বাচনে টাকারজলা নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
অধ্যক্ষের কথায়, রাজ্যের তৃতীয় বামফ্রন্ট সরকারের আমলে তিনি সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে নিষ্ঠা, সততা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের উন্নয়ন, নারীশিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে উনার অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এই সভা শ্রীমতি কার্তিক কন্যা দেববর্মার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও অসংখ্য অনুরাগীর প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে।
এদিন অধ্যক্ষ বলেন, গভীর শোক ও বেদনা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এই সভাকে অবহিত করছি, ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, কিংবদন্তি শিল্পী, সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে বুকে সংক্রমণজনিত জটিলতার পর বহুঅঙ্গ বিকল হয়ে গত ১২ এপ্রিল মুম্বাইরের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ৯২ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন। তিনি ৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৩ সালে মহারাষ্ট্রের সাংলিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
তিনি বলেন, আশা ভোঁসলে ছিলেন ভারতীয় সঙ্গীতের এক অনন্য প্রতিভা, এক অমর কণ্ঠস্বর, যার সুরের মাধুর্যে প্রজন্মের পর প্রজন্ম মুগ্ধ হয়েছে। আশা ভোঁসলে-র প্রয়াণ ভারতীয় সঙ্গীত জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি শুধুমাত্র একজন গায়িকা নন, তিনি ছিলেন সুরের এক জাদুকরী শিল্পী, যিনি হিন্দি চলচ্চিত্র সঙ্গীত থেকে শুরু করে বাংলা, মারাঠি, গুজরাটি, পাঞ্জাবি সহ বহু ভাষায় অসংখ্য অমর গান উপহার দিয়ে ভারতীয় সঙ্গীত ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন। উনার কণ্ঠে প্রেম, বেদনা, উচ্ছ্বাস ও জীবনের নানা অনুভূতির এক অপূর্ব প্রকাশ ঘটেছে।
আশা ভোঁসলে-র দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি পদ্মবিভূষণ, দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারসহ বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তবে উনার প্রকৃত স্বীকৃতি নিহিত রয়েছে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে, যেখানে তিনি চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন, যোগ করেন অধ্যক্ষ।
তাঁর কথায়, আশা ভোঁসলে-র প্রয়াণে ভারতীয় সঙ্গীত জগৎ এক মহামূল্যবান রত্ন হারালো। সৃষ্টিশীলতা, কণ্ঠস্বর এবং সঙ্গীতের প্রতি উনার নিবেদন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে। বহুমুখী প্রতিভাধর গায়িকা হিসেবে তিনি সুপরিচিত ছিলেন।
অধ্যক্ষ বলেন, এই শোকের মুহূর্তে এই সভা আশা ভোঁসলে-র শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে এবং আমরা প্রার্থনা করছি, ঈশ্বর যেন তাঁর বিদেহী আত্মাকে চিরশান্তি দান করেন। এদিন ত্রিপুরা বিধানসভা কার্তিক কন্যা দেববর্মা এবং আশা ভোঁসলের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে তাঁদের বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনায় দুই মিনিট নীরবতা পালন করেন।


















