কলকাতা, ১৯ এপ্রিল (আইএএনএস): মানি লন্ডারিং মামলার তদন্তে রবিবার কলকাতার ব্যবসায়ী জয় কামদারকে আটক করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তিনি সান এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। এই মামলায় মূল অভিযুক্ত অপরাধী সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার এবং তার সঙ্গে যুক্ত চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে ইডি।
এদিন সকালে দক্ষিণ কলকাতার বেহালা এলাকায় কামদারের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডির আধিকারিকরা। একই সঙ্গে দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ এলাকায় কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত দুটি ঠিকানাতেও তল্লাশি চালানো হয়।
ইডির তরফে জানানো হয়েছে, প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ), ২০০২-এর অধীনে দায়ের হওয়া মামলায় এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের দুটি এবং জয় কামদারের একটি বাড়িতে তল্লাশি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কামদার মূলত রিয়েল এস্টেট প্রোমোটিং ও নির্মাণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এর আগেও তার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশির সময় কামদারের নাম সামনে আসে।
বেহালার বাড়ি থেকে নগদ অর্থও উদ্ধার করেছে ইডি। এর আগে তাকে দু’বার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান। এরপরই রবিবার তার বাড়িতে ফের অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা ও তোলাবাজির একাধিক মামলা রয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার কসবা ও বালিগঞ্জ এলাকায় তার সিন্ডিকেট সক্রিয় বলে অভিযোগ। ফেব্রুয়ারিতে গোলপার্কে সংঘর্ষের ঘটনাতেও তিনি অন্যতম অভিযুক্ত। বর্তমানে তিনি পলাতক।
অভিযোগ, নির্মাণ সংস্থাগুলির কাছ থেকে তোলা আদায় করে সেই অর্থ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দিত পাপ্পুর চক্র। এর আগে ১ এপ্রিল এই মামলায় প্রথম দফায় তল্লাশি চালিয়ে ১.৪৭ কোটি টাকা নগদ, প্রায় ৬৭.৬৪ লক্ষ টাকার সোনা-রূপোর গয়না এবং একটি দেশি রিভলভার উদ্ধার করেছিল ইডি।
এই তদন্তের সূত্রপাত কলকাতা পুলিশের একটি এফআইআর থেকে, যেখানে দাঙ্গা, খুনের চেষ্টা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্র আইনের ধারায় সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। ইডি ইতিমধ্যেই পাপ্পুকে তলব করলেও তিনি এখনও হাজিরা দেননি।



















