নয়াদিল্লি, ১৭ এপ্রিল (আইএএনএস): রাজ্যসভার উপ-সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় হরিবংশ নারায়ণ সিং-কে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, টানা তৃতীয়বার এই পদে নির্বাচিত হওয়া সংসদের তাঁর প্রতি গভীর আস্থারই প্রতিফলন।
রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “হরিবংশজি-কে আন্তরিক অভিনন্দন। টানা তৃতীয়বার উপ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়া প্রমাণ করে এই সদন তাঁর উপর কতটা আস্থা রাখে। তাঁর নেতৃত্বে রাজ্যসভার কার্যপ্রণালী আরও উন্নত হয়েছে। তাঁর সরল ও দক্ষ কাজের ধরণই এর প্রমাণ।”
তিনি আরও বলেন, “আমি নিশ্চিত, নতুন মেয়াদেও তিনি একই নিষ্ঠা ও ভারসাম্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করবেন। সকলের সহযোগিতায় এই সদন নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।”
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, হরিবংশ নারায়ণ সিং ছাত্রজীবন থেকেই গ্রামোন্নয়নের কাজে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁর জন্ম হয়েছিল জয়প্রকাশ নারায়ণের গ্রামে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মোদি বলেন, “আজ, ১৭ এপ্রিল, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখর-এর জন্মবার্ষিকী। এই দিনে হরিবংশজি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করছেন, এটি এক তাৎপর্যপূর্ণ সংযোগ। তিনি চন্দ্রশেখরজির উপর একটি বইও লিখেছেন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবন ও ভাবনা তুলে ধরেছেন।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “হরিবংশজির জনজীবন শুধু সংসদীয় কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সাংবাদিক হিসেবেও তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। মানবিক মূল্যবোধকে তিনি সবসময় অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং তাঁর ভাষা ও অভিব্যক্তিতে শৃঙ্খলা ও সরলতা প্রতিফলিত হয়।”
তিনি স্মরণ করেন, “আমি যখন গুজরাতে ছিলাম, তখন তাঁর লেখা পড়তাম। তিনি স্পষ্টভাবে নিজের মত প্রকাশ করতেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরতেন। সাংবাদিকতায় তিনি সবসময় শেষ মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। সংসদেও সেই গুণের প্রতিফলন দেখা যায়।”
নতুন সাংসদদের জন্য হরিবংশ নারায়ণ সিং-এর কাজ শিক্ষণীয় বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বের প্রতি নিষ্ঠা তাঁর বড় শক্তি। তিনি প্রতিটি বিষয় মনোযোগ দিয়ে শোনেন, যা আমাদের সবার জন্য শিক্ষণীয়।”
এছাড়া যুব সমাজের সঙ্গে তাঁর সংযোগের কথাও তুলে ধরেন মোদি। তিনি জানান, ২০১৮ সালে উপ-সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর হরিবংশজি প্রায় ৩০০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচি পরিচালনা করেছেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর স্বপ্ন যুব সমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি নিরন্তর কাজ করছেন।”


















