নয়াদিল্লি, ১৬ এপ্রিল (আইএএনএস): কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ন্যূনতম বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ন্যাশনাল কাউন্সিল–জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি (এনসি-জেসিএম)। অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া সাধারণ স্মারকে ৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে, যার ফলে ন্যূনতম বেতন বর্তমান ১৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৯,০০০ টাকায় পৌঁছতে পারে।
এনসি-জেসিএম, যা কেন্দ্রীয় সরকার ও কর্মচারীদের মধ্যে শীর্ষস্তরের আলোচনার মঞ্চ, তারা এক মাসের বেতন সমপরিমাণ গ্র্যাচুইটি-সহ অন্যান্য সুবিধারও প্রস্তাব দিয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ হল একটি গুণক, যার মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার খরচ বিবেচনা করে বর্তমান বেসিক বেতনের উপর নতুন বেতন নির্ধারণ করা হয়।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বছরে ৬ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতির ক্ষেত্রে অন্তত ১০,০০০ টাকার সুবিধা সহ দুইটি ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার কথাও বিবেচনা করা হোক।
অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হলে ৫০ লক্ষেরও বেশি কেন্দ্রীয় কর্মচারী এবং প্রায় ৬৫ লক্ষ পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন।
উল্লেখ্য, সপ্তম বেতন কমিশনে ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন ষষ্ঠ বেতন কমিশনের ৭,০০০ টাকার বেসিক বেতন গুণ করে তা ১৮,০০০ টাকায় উন্নীত করা হয়।
বর্তমান বেতন কাঠামোতে মোট ১৮টি লেভেল রয়েছে, যেখানে উচ্চপদস্থ কর্মীরা বেসিক বেতনের পাশাপাশি এইচআরএ, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং অন্যান্য ভাতা পান।
এদিকে, ফেডারেশন অব ন্যাশনাল পোস্টাল অর্গানাইজেশন সরকারকে ৫৮ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বেসিক বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার এবং একই তারিখ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
কেন্দ্র কোন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর গ্রহণ করবে, তার উপরই চূড়ান্ত বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ নির্ভর করবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ২.৫-এর বেশি হতে পারে। যদিও কিছু কর্মী সংগঠন ৩.১৫ ফ্যাক্টরের দাবিও জানিয়েছে।
কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী গত মার্চে সংসদে জানান, অষ্টম বেতন কমিশন বেতন, ভাতা, পেনশনসহ অন্যান্য সুবিধা নিয়ে সুপারিশ করবে এবং ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ১৮ মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



















