News Flash

  • Home
  • দেশ
  • লখনউ থেকে কানপুর : এক্সপ্রেসওয়ে যাতায়াত সময় কমে হবে মাত্র ৩০–৩৫ মিনিট
Image

লখনউ থেকে কানপুর : এক্সপ্রেসওয়ে যাতায়াত সময় কমে হবে মাত্র ৩০–৩৫ মিনিট

সন্দীপ বিশ্বাস

লখনউ সফররত, ৮ মার্চ : উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউ ও শিল্পনগরী কানপুরের মধ্যে যাতায়াত আরও দ্রুত ও সহজ করতে নির্মীয়মাণ লখনউ–কানপুর এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে দুই শহরের দূরত্ব পেরোতে সময় লাগবে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট। এমনটাই জানিয়েছেন ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়ার(এনএইচআইএ) এক আধিকারিক।

প্রকল্পটি সম্পর্কে জানাতে গিয়ে এনএইচআইএ-র লখনউ প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিটের (পিআইইউ) প্রজেক্ট ডিরেক্টর নকুল প্রকাশ ভার্মা বলেন, এই এক্সপ্রেসওয়ে লখনউ রিং রোডকে কানপুর রিং রোডের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। ফলে দুই শহরের মধ্যে দ্রুত ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

তাঁর কথায়, বর্তমানে প্রচলিত সড়কপথে লখনউ থেকে কানপুর যেতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে। নতুন এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে সেই সময় কমে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিটে নেমে আসবে।

এই এক্সপ্রেসওয়ের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৯.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ফ্লাইওভারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উত্তরপ্রদেশে আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নত করার লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নকুল প্রকাশ ভার্মা জানান, প্রকল্পটি দুটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথম ধাপের দৈর্ঘ্য ১৭.৫২ কিলোমিটার এবং দ্বিতীয় ধাপের দৈর্ঘ্য ৪৫.২৪৪ কিলোমিটার। হাইব্রিড অ্যানুইটি মডেলের আওতায় নির্মাণকাজ চলছে।

তাঁর দাবি, ভারত সরকারের ‘ভারতমালা প্রকল্প’-এর অধীনে এই এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য রাজ্যের রাজধানী লখনউ ও প্রধান শিল্পকেন্দ্র কানপুরের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা।

তাঁর বক্তব্য, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাঁদের মধ্যে রয়েছেন সরকারি কর্মচারী, বেসরকারি সংস্থার কর্মী, ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রী লখনউ ও কানপুরের মধ্যে যাতায়াত করেন। বর্তমানে অনেক যাত্রীকে প্রতিদিন দুই শহরের মধ্যে যাতায়াতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।

ভার্মার মতে, নতুন এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে দৈনিক যাত্রীদের ব্যাপক সুবিধা হবে এবং যানজটও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

তিনি জানান, প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় আনুমানিক প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা এবং মোট প্রকল্প ব্যয় প্রায় ৩,৭০০ কোটি টাকা। অবকাঠামোগত সুবিধার মধ্যে রয়েছে ১১টি ভেহিকুলার আন্ডারপাস, ১৩টি লাইট ভেহিকুলার আন্ডারপাস, ১১টি পথচারী আন্ডারপাস, একটি রেলওয়ে ওভারব্রিজ, চারটি বড় সেতু এবং ৯.৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভার।

পুরো এক্সপ্রেসওয়ে জুড়ে আধুনিক ‘অ্যাডভান্সড ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (এটিএমএস) স্থাপন করা হবে। এর আওতায় থাকবে ৬৩টি পিটিজেড ক্যামেরা, ২১টি ইন্টারচেঞ্জ ক্যামেরা এবং ১৬টি ভিডিও ইনসিডেন্ট ডিটেকশন সিস্টেম। এছাড়া ২৭ কিলোমিটার ও ৩৫ কিলোমিটার পয়েন্টে দুটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হবে। সেখান থেকে যানবাহন চলাচল পর্যবেক্ষণ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে।

কোনও দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে উদ্ধার ও জরুরি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, জানান তিনি।

প্রকল্পের সাথে যুক্ত অধিকারিকদের মতে, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে এক্সপ্রেসওয়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় পরিদর্শন শেষ হলে এক সপ্তাহের মধ্যেই এক্সপ্রেসওয়েটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে। এই প্রকল্প চালু হলে দুই শহরের মধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

Releated Posts

এডিসির ফলাফলের পর, প্রদ্যোতের সঙ্গে সাক্ষাতে বিধায়িকা স্বপ্না দেববর্মা

আগরতলা, ২৩ এপ্রিল: এডিসি নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তিপরা মথার অন্দরে চলা বিদ্রোহের সুর ক্রমশ নরম হতে শুরু…

ByByReshmi Debnath Apr 23, 2026

তুলাবাড়িতে তিপ্রা মথার বিদায়ী এমডিসি সোহেল দেববর্মার গাড়িতে হামলা, চাঞ্চল্য

আগরতলা, ২৩ এপ্রিল: তিপ্রা মথার বিদায়ী এমডিসি সোহেল দেববর্মার গাড়িতে দুষ্কৃতীদের হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়…

ByByReshmi Debnath Apr 23, 2026

বিরোধীদের কারণে সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিলের সংশোধনী পাস করা যায়নি: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ২৩ এপ্রিল: বিরোধীদের কারণে সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিলের সংশোধনী পাস করা যায়নি। এই সংশোধনী বিল ভারতে নারী…

ByByReshmi Debnath Apr 23, 2026

বাংলায় কর্মচারী ও মহিলারা বিজেপিকে সমর্থন করবেন: মন্ত্রী রতনলাল নাথ

আগরতলা, ২৩ এপ্রিল: পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনে কর্মচারী ও মহিলারা বিজেপিকে ভোট দেবেন এবং মানুষ বাংলাকে বাঁচাতে বিজেপিকেই ভোট…

ByByReshmi Debnath Apr 23, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top