News Flash

  • Home
  • দেশ
  • উত্তরপ্রদেশে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে জোর রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেলের
Image

উত্তরপ্রদেশে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে জোর রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেলের

সন্দীপ বিশ্বাস

লখনউ সফররত, ৬ মার্চ : বিদ্যালয়ে ড্রপ আউটের হার শূন্যে নামাতে উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল মানসম্মত শিক্ষা এবং ‘কেজি থেকে পিজি’ পর্যন্ত পরিকল্পিত শিক্ষাব্যবস্থার উপর জোর দিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন।

উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউয়ে জন ভবনে ত্রিপুরা ও কর্ণাটকের সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি গুজরাটের শিক্ষা মডেলের কথা উল্লেখ করেন। রাজ্যপাল জানান, সেখানে শিক্ষকরা গ্রামে গ্রামে সমীক্ষা চালিয়ে ছয় বছর বয়সী প্রতিটি শিশুকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি নিশ্চিত করেছিলেন। সময়মতো বই পৌঁছে দিতে কয়েক মাস আগেই বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ছাপানো হতো। পাশাপাশি স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ এবং মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহ দিতে বিশেষ প্রণোদনাও চালু করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, যেসব গ্রামে নারীদের সাক্ষরতার হার ৩৫ শতাংশের নিচে ছিল, সেসব গ্রামের মেয়েদের জন্য ‘নর্মদা বন্ড’ নামে এক হাজার টাকার পুরস্কার দেওয়া হতো।

রাজ্যপাল জানান, এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত গ্রামে গ্রামে সমীক্ষা চালিয়ে শিক্ষকরা শিশুদের তালিকা প্রস্তুত করতেন। জুন মাসের মধ্যেই স্কুলে বই ও ইউনিফর্ম পৌঁছে যেত। এর ফলে কোনো শিশুই পড়াশোনা থেকে বাদ পড়ত না।

তিনি আরও বলেন, গ্রাম পর্যায়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ও সরকারি আধিকারিকরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন। সেখানে শিশুদের বক্তব্য রাখা, নৃত্য ও যোগাভ্যাসের মতো কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হত। সেইসব অনুষ্ঠানে বই, পোষাক ও মিষ্টি বিতরণের পাশাপাশি স্কুলের গ্রন্থাগারের জন্য বই দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হতো।

আনন্দীবেন প্যাটেল দাবি করেন, বর্তমানে ড্রপআউটের হার ৮.১ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে এবং প্রায় সব শিশুই শিক্ষার আওতায় এসেছে। তাঁর মতে, ‘কেজি থেকে পিজি’ পর্যন্ত ধারাবাহিক শিক্ষার ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে একটি শিশু কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি হওয়ার পর উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত এগিয়ে যেতে পারে।

কেন্দ্রের নতুন শিক্ষা নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির হার ৫০ শতাংশে পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য। তবে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা কমানোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

২০১৯ সালের পর থেকে উত্তরপ্রদেশে শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করে রাজ্যপাল বলেন, রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে একই ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। তিনি প্রশাসন ও সমাজের সকল স্তরকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে প্রতিটি শিশু শুধু স্কুলে ভর্তি নয়, উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।

Releated Posts

আগামী তিন দিন তীব্র দাবদাহের সতর্কতা জারি আবহাওয়া দফতরের

আগরতলা, ২৩ এপ্রিল: তীব্র রোদ ও উচ্চ আর্দ্রতার প্রভাবে আগামী তিন দিন ত্রিপুরার বিভিন্ন জেলায় গরম ও অস্বস্তিকর…

ByByTaniya Chakraborty Apr 23, 2026

মাত্র ১৩ দিনেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সিলিং ধসে পড়ল, অল্পের জন্য রক্ষা পেল শিশুরা

বিলোনিয়া, ২৩ এপ্রিল: দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়া মহকুমার অন্তর্গত উত্তর বিলোনিয়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। কেন্দ্রটির মেরামতের কাজ শেষ…

ByByTaniya Chakraborty Apr 23, 2026

বেঙ্গল ভোট: বুথের বাইরে উত্তেজনা, ‘মুর্শিদাবাদে তৃণমূলকে শূন্য করব’—হুমায়ুন কবীর

নয়াদিল্লি, ২৩ এপ্রিল (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ চলাকালীন মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভা কেন্দ্রে একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে…

ByByNews Desk Apr 23, 2026

বেঙ্গল ভোট: মুর্শিদাবাদের দুই ঘটনায় রিপোর্ট তলব নির্বাচন কমিশনের

কলকাতা, ২৩ এপ্রিল (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট চলাকালীন মুর্শিদাবাদ জেলার দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রিপোর্ট…

ByByNews Desk Apr 23, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top