সোনামুড়া, ৩ মার্চ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে জল্পনার জেরে সোনামুড়ায় হঠাৎ করেই জ্বালানি তেল—পেট্রোল ও ডিজেল—নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার রাত থেকেই বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে বাইক ও গাড়ির দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। মঙ্গলবার পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক রূপ নেয়।
বিশেষ করে সোনামুড়া এন. জে. ঘোষ পেট্রোল পাম্পে সকাল থেকেই অস্বাভাবিক ভিড় চোখে পড়ে। যদিও এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে পেট্রোল বা ডিজেল সংকট সংক্রান্ত কোনও ঘোষণা করা হয়নি। পাম্প কর্তৃপক্ষও দাবি করেছেন, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং পর্যাপ্ত স্টক মজুত আছে।
তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাম্প সূত্রে জানা গেছে, যেখানে সাধারণত প্রতিদিন ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার লিটার পেট্রোল বিক্রি হয়, সেখানে গত একদিনে প্রায় ১০ হাজার লিটার বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ প্রকৃত সংকটের চেয়ে আতঙ্ক ও আগাম মজুত করার প্রবণতাই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
এই অস্বাভাবিক চাহিদা সামাল দিতে পাম্প কর্তৃপক্ষ প্রতি বাইকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা এবং প্রতি চারচাকায় ৫০০ টাকার তেল দেওয়ার সীমা নির্ধারণ করেছে। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, এই নিয়ন্ত্রণ না থাকলে মাত্র ২–৩ ঘণ্টার মধ্যেই স্টক শেষ হয়ে যেতে পারে। আগে যেখানে অনেক গ্রাহক ১০০ টাকার তেল নিতেন, এখন তারাই একসঙ্গে হাজার টাকার তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এরই মধ্যে আরও উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ড্রামে করে তেল সংগ্রহ করে মজুত করছেন, যা কালোবাজারির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে—যখন সরকারি স্তরে কোনও সংকটের ঘোষণা নেই, তখন আতঙ্কে এই হুড়োহুড়ি কেন? আর এই সুযোগে যদি কালোবাজার সক্রিয় হয়ে ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করবে কে? পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সোনামুড়ার জনগণ।

