কলকাতা, ৩ মার্চ (আইএএনএস): বিচারাধীন নথি যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে আরও বহু ভোটারের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে বলে সূত্রের খবর।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের (সিইও) দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতি বিভাগে চিহ্নিত হয়ে বিচারিক নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো ভোটার নথির সংখ্যা ১৪,১৫৪। এই নথিগুলির উপর বিচারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইতিমধ্যে বিচারাধীন মামলাগুলি বাদ দিয়ে প্রকাশিত পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে ৪৭,১১১ জনের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে যাঁদের নাম বাদ পড়বে, তা এই সংখ্যার সঙ্গে যুক্ত হবে।
রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, ভবানীপুরে বিপুল সংখ্যক ভোটার নাম ইতিমধ্যেই বাদ পড়া এবং আরও বহু নাম বিচারাধীন থাকায় তা মুখ্যমন্ত্রীর জন্য “সতর্কবার্তা”।
তিনি বলেন, “ভবানীপুরে এখন আর পর্যাপ্ত সংখ্যক ভোটার নেই, যারা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রীর জয় নিশ্চিত করতে পারবেন।”
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, “ভবানীপুরে একজন ভোটার থাকলেও আমি জিতব।”
একইসঙ্গে তিনি নির্বাচন কমিশন-র বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ, “ইসিআই ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে। আমি স্তম্ভিত। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক পরিস্থিতি। আমার ভবানীপুর কেন্দ্রে বহু ভোটারের নাম মুছে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির সহায়তায় নির্বাচন কমিশন একটি ষড়যন্ত্র করেছে। এত নাম বাদ পড়লেও একজন ভোটার থাকলেও আমি জিতব।”
এদিকে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, বিচারিক নিষ্পত্তির ফলাফল এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকার পরিবর্তন ভবানীপুর কেন্দ্রের নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
_____

