বিশ্বের উৎপাদন অংশীদার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে ভারত: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

নয়াদিল্লি, ৩ মার্চ (আইএএনএস): পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্ব নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল উৎপাদন অংশীদার খুঁজছে এবং এই ক্ষেত্রে ভারত শক্তভাবে ভূমিকা নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

মঙ্গলবার ‘সাসটেইনিং অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং ইকোনমিক গ্রোথ’ শীর্ষক পোস্ট-বাজেট ওয়েবিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি শিল্পপতিদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ, গবেষণায় বড়সড় বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্গঠিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের শক্তিশালী অর্থনীতি বিশ্বে আশার আলো হয়ে উঠেছে। দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব চুক্তি নতুন সুযোগের দ্বার খুলে দিয়েছে। তবে এর সুফল পেতে ভারতীয় শিল্পকে গুণগত মানের ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে। আন্তর্জাতিক ভোক্তাদের পছন্দ ও চাহিদা নিয়ে গবেষণা করে ব্যবহারবান্ধব পণ্য তৈরির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সরকারের স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি ও অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বেশি তৈরি করো, বেশি উৎপাদন করো, বেশি সংযোগ স্থাপন করো এবং বেশি রপ্তানি করো”—এই মন্ত্রেই এগোতে হবে।

এমএসএমই খাতের প্রসঙ্গে তিনি জানান, সাম্প্রতিক শ্রেণিবিন্যাস সংস্কারের ফলে ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলির সম্প্রসারণের ভীতি দূর হয়েছে। সরকার ঋণপ্রাপ্তি ও প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখলেও প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এমএসএমই-র সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, মানোন্নয়ন এবং ডিজিটাল প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অবকাঠামো ও লজিস্টিকসকে জাতীয় প্রবৃদ্ধি কৌশলের মূল স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেটে রেকর্ড মূলধনী ব্যয় বরাদ্দ করা হয়েছে। উচ্চগতির রেল, মাল্টি-মোডাল সংযোগ এবং জাহাজ মেরামত পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। শিল্প ও বিনিয়োগকারীরা কৌশলগতভাবে নিজেদের পরিকল্পনা সাজালে তবেই এই অবকাঠামোর প্রকৃত সুফল মিলবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শহরায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নির্ভর করছে শহরগুলির কার্যকর পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ওপর। টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরগুলি কীভাবে নতুন প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হতে পারে, সে বিষয়ে পরামর্শ আহ্বান করেন তিনি।

টেকসই উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজার এখন শুধু খরচ নয়, পরিবেশগত প্রভাবকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। ‘কার্বন ক্যাপচার, ইউটিলাইজেশন অ্যান্ড স্টোরেজ মিশন’-এর উল্লেখ করে তিনি শিল্পক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি সংযুক্ত করার আহ্বান জানান। সময়মতো পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগকারী শিল্পই আগামী দিনে নতুন বাজারে অধিক সুযোগ পাবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

উৎপাদন, লজিস্টিকস, এমএসএমই এবং নগর কেন্দ্রগুলি পরস্পর সংযুক্ত—এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন রপ্তানিকে ত্বরান্বিত করে এবং প্রতিযোগিতামূলক এমএসএমই খাত নমনীয়তা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে। চলতি বাজেট এই সব ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

উৎপাদন খাতে বিদ্যমান বাধা দূরীকরণ এবং মূল সক্ষমতা জোরদারে সরকারের পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ডেডিকেটেড রেয়ার আর্থ করিডর ও কন্টেনার উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রে গুরুত্ব আরোপ বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া বাজেটে ঘোষিত ‘বায়োফার্মা শক্তি মিশন’-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জৈব-ওষুধ ও পরবর্তী প্রজন্মের থেরাপির ক্ষেত্রে ভারতকে বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য। উন্নত বায়োফার্মা গবেষণা ও উৎপাদনে নেতৃত্বের দিকে এগোতে চায় ভারত, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Reply