রঙ, ভক্তি ও ঐতিহ্যে মুখর অসমে দোলযাত্রা উদ্‌যাপন

গুয়াহাটি, ৩ মার্চ: রঙ, সঙ্গীত ও ভক্তিমূলক আবহে মঙ্গলবার অসম জুড়ে উদ্‌যাপিত হল বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব দোলযাত্রা। এই উপলক্ষে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং উৎসবের গভীর সাংস্কৃতিক তাৎপর্যের কথা তুলে ধরেন।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ বার্তায় তিনি বলেন, বসন্তের আগমনের সঙ্গেই দোলযাত্রা উদ্‌যাপিত হয়, যা শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার চিরন্তন প্রেমের প্রতীক। উৎসব উপলক্ষে শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার বিগ্রহ সজ্জিত দোলায় বসিয়ে শোভাযাত্রা বের করা হয়। স্থানীয়ভাবে এই দোলাকে ‘দোলা’ বলা হয়। ভক্তিমূলক গান, ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র এবং রঙের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে শহর ও গ্রামাঞ্চল।

“এই অনন্য উৎসব প্রত্যক্ষ করা উচিত,” মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী, এবং রাজ্যের এই ভক্তি-সংস্কৃতি-সম্প্রীতির মিলনমেলা উপভোগের আহ্বান জানান।

অসমের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পঞ্জিকায় দোলযাত্রার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এটি মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শঙ্করদেব-এর প্রচারিত বৈষ্ণব ধর্মীয় ধারার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। রাজ্যের বিভিন্ন সত্র ও নামঘরে প্রার্থনা, নাম-কীর্তন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অসমে দোলযাত্রা শুধু ধর্মীয় আচার নয়; এটি বসন্তের আগমনী বার্তা এবং সম্প্রীতি, অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক ঐক্যের প্রতীক। সব বয়সের মানুষ রঙ খেলায় অংশ নেন, ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশন করেন এবং একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান।

মাজুলি, বরপেটা, নগাঁও এবং গুয়াহাটি-সহ রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে দোলযাত্রা উপলক্ষে বড় জমায়েত দেখা যায়। ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে উৎসবের আবহ আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলি বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাজ্যের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উৎসবকে আরও প্রসারিত করার প্রচেষ্টার সঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা সঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ভক্তি, রঙ ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে দোলযাত্রা আজও অসমের অন্যতম স্বতন্ত্র বসন্ত উৎসব হিসেবে পরিচিত।

Leave a Reply