বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ আওয়ামী লীগের

ঢাকা, ৩ মার্চ: দেশে চলমান গণগ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে দলটি অভিযোগ করে, এই ধরনের পদক্ষেপ মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে এবং ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনকে ক্ষুণ্ণ করছে।

দলের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ভিন্নমত দমনে “দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি” চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগের দাবি, এর আগে মুহাম্মদ ইউনূস-নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, “রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের গণগ্রেপ্তার এবং হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। বারবার গ্রেপ্তার, নির্বিচারে রিমান্ড এবং হেফাজতে মৃত্যুর খবরে দেশজুড়ে ক্ষোভ ও বেদনা তৈরি হয়েছে।”

দলটি অভিযোগ করে, সম্প্রতি ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় কোনও মামলা বা অভিযোগ ছাড়াই তাদের মহিলা নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হেফাজতে মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে আওয়ামী লীগ জানায়, গাইবান্ধা জেলা শাখার নেতা ও সহ-সভাপতি শামীকুল ইসলাম এবং পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার ছাত্রলীগ সভাপতি শফিকুল ইসলাম খান হেফাজতে নিহত হয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন, ভিন্নমতকে ভয় দেখানো এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার এ ধরনের প্রকাশ্য প্রচেষ্টা কোনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্য নয়। গণগ্রেপ্তার ও হেফাজতে মৃত্যু শুধু মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন নয়, এটি ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।”

রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে দলটি দাবি জানায়, হেফাজতে প্রতিটি মৃত্যুর ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বিএনপি সরকারের আমলে এই ঘটনাগুলি আওয়ামী লীগ ও সরকারের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক বিরোধকে আরও তীব্র করে তুলেছে। আওয়ামী লীগ এর আগেও অভিযোগ করেছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে কারাগার ও পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল, যার ফলে আটক প্রক্রিয়া সুরক্ষার বদলে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছিল।

Leave a Reply