News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • ত্রিপুরার ছাত্র হত্যাকাণ্ডে দায়ের পিআইএল খারিজ, অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে যাওয়ার পরামর্শ সুপ্রিম কোর্টের
Image

ত্রিপুরার ছাত্র হত্যাকাণ্ডে দায়ের পিআইএল খারিজ, অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে যাওয়ার পরামর্শ সুপ্রিম কোর্টের

নয়াদিল্লি, ১৮ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নাগরিকদের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষমূলক হিংসা রোধে সর্বভারতীয় নির্দেশিকা প্রণয়নের দাবিতে দায়ের জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) বুধবার নিষ্পত্তি করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত মামলাকারীকে বিষয়টি ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে উপস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছে।

ত্রিপুরার এক ছাত্রের হত্যাকাণ্ডকে “দুঃখজনক” আখ্যা দিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, এই বিষয়গুলি যথাযথ কর্তৃপক্ষের সামনে অ্যাটর্নি জেনারেলের সদয় দপ্তরের মাধ্যমে তোলা উচিত। বেঞ্চে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিপুল পাঞ্চোলিও উপস্থিত ছিলেন।

সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে দায়ের হওয়া পিআইএলে বলা হয়, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা কোড কার্যকর হলেও ঘৃণাজনিত বা বর্ণবিদ্বেষমূলক অপরাধের কোনও স্বতন্ত্র আইনগত স্বীকৃতি নেই। এফআইআর দায়েরের পর্যায়ে পক্ষপাতমূলক উদ্দেশ্য নথিবদ্ধ করার বাধ্যবাধকতাও নেই, পাশাপাশি বিশেষ তদন্ত বা ভুক্তভোগী সুরক্ষা ব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি বলে অভিযোগ করা হয়।

শুনানিতে মামলাকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে অন্তত একটি বিশেষ অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা গড়ার আবেদন জানান। তবে বেঞ্চ অঞ্চলভিত্তিক আলাদা ব্যবস্থা তৈরিতে আপত্তি জানায়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এভাবে অঞ্চলভিত্তিক পরিচয় জোরদার হলে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে এবং দেশের ঐক্যবদ্ধ ফেডারেল কাঠামো দুর্বল হতে পারে।

এই পিআইএল দায়ের হয় দেরাদুনে ত্রিপুরার বাসিন্দা অ্যাঞ্জেল চাকমার নৃশংস হামলা ও মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে। চূড়ান্ত বর্ষের এমবিএ ছাত্র চাকমাকে ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর দেরাদুনের সেলাকুই এলাকায় একদল যুবক আক্রমণ করে বলে অভিযোগ। তাঁর ভাইয়ের দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় চাকমার শেষ কথাগুলির একটি ছিল— “আমরা চীনা নই… আমরা ভারতীয়। তা প্রমাণ করতে কী শংসাপত্র দেখাব?” পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; অতীতেও উত্তর-পূর্বের নাগরিকদের বিরুদ্ধে এমন হিংসার নজির রয়েছে।

পিআইএলে বর্ণবিদ্বেষমূলক হিংসাকে পৃথক সাংবিধানিক অন্যায় হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বাধ্যতামূলক নির্দেশিকা জারির আর্জি জানানো হয়, যাতে সকল নাগরিকের মর্যাদা, সমতা ও ভ্রাতৃত্বের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে।

Releated Posts

এডিসি নির্বাচন শুধুমাত্র রাজনৈতিক লড়াই নয়, এটি জাতির অস্তিত্ব ও অধিকার রক্ষার লড়াই : প্রদ্যোত 

আগরতলা, ৪ এপ্রিল: এডিসি নির্বাচন শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক লড়াই নয়, এটি জাতির অস্তিত্ব ও অধিকার রক্ষার লড়াই। আসন্ন…

ByByNews Desk Apr 4, 2026

বন্যহাতির আক্রমণে নিহত মনিমালা দেববর্মার বাড়িতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ৪ এপ্রিল: গতরাতে বন্যহাতির আক্রমণে নিহত ৬৯ বছর বয়সী জনজাতি বৃদ্ধা মনিমালা দেববর্মার বাড়িতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর…

ByByNews Desk Apr 4, 2026

ত্রিপুরায় বিচারক সম্মেলনে বিচারব্যবস্থাকে “গণতন্ত্রের ইস্পাত কাঠামো” বললেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ভট্টি

আগরতলা, ৪ এপ্রিল : সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এস. ভেঙ্কটনারায়ণা ভট্টি শনিবার ত্রিপুরায় অনুষ্ঠিত ১২তম বার্ষিক বিচারক সম্মেলনে বিচারব্যবস্থাকে…

ByByTaniya Chakraborty Apr 4, 2026

ধর্মনগরে উপনির্বাচনের দামামা, শুরু ভোটকর্মীদের ভোটদান

ধর্মনগর, ৪ এপ্রিল: ৫৬-ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সরগরম উত্তর ত্রিপুরা জেলা। মূল নির্বাচনের আগে শুক্রবার থেকে…

ByByTaniya Chakraborty Apr 4, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top