ফুলচাষে স্বনির্ভরতার পথে  ত্রিপুরা, লাভবান ৫৯ হাজারের বেশি কৃষক: কৃষিমন্ত্রী

আগরতলা, ৪ ফেব্রুয়ারি: গত সাত বছরে ত্রিপুরা রাজ্যে ফুলচাষে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ফুল উৎপাদনে বিপুল বৃদ্ধি ঘটার পাশাপাশি রাজ্যের হাজার হাজার কৃষক এই চাষের মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন, লাভবান হয়েছেন ৫৯ হাজারের বেশি কৃষক। বুধবার পশ্চিম ত্রিপুরার মোহনপুরে বিবেকানন্দ ফুল উদ্যানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান কৃষি মন্ত্রী রতন লাল নাথ।

মন্ত্রী বলেন, ফুল ছাড়া মানুষের জীবন কল্পনাই করা যায় না। কাউকে অভ্যর্থনা জানাতে ফুল লাগে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ফুল লাগে, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিটি অনুষ্ঠানে ফুলের প্রয়োজন। ত্রিপুরার মাটি অত্যন্ত উর্বর এবং এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়—এই জলবায়ু ফুলচাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

তিনি বলেন, একসময় মানুষ ফুলকে শুধুই সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে দেখত। কিন্তু আজ ফুলচাষ বহু মানুষের আয়ের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। বারজালার সেন্টু ভৌমিক বছরে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা আয় করছেন, কাঞ্চনমালার প্রদীপ সরকার আয় করছেন প্রায় ১২ লক্ষ টাকা, চাঁদিবাড়ির জয়ন্ত দে, বাইখোরার ইন্দ্রজিৎ দেবনাথ (যার আয় ৮ থেকে ৯ লক্ষ টাকা)—এমন বহু কৃষক আজ ফুলচাষের মাধ্যমে সফলতার মুখ দেখছেন।

মন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালের আগে ত্রিপুরায় মাত্র ২,৭৩৮ কানি জমিতে ফুলচাষ হত। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১,৭২০ কানি। আগে যেখানে মাত্র ২,১৯০ জন কৃষক এই চাষে যুক্ত ছিলেন, এখন সেখানে ৫৯,১০০ জন কৃষক ফুলচাষের সঙ্গে জড়িত।

ফুল উৎপাদনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আগে যেখানে মোট উৎপাদন ছিল ১,১১৭ মেট্রিক টন, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ২,৭০৪ মেট্রিক টন। ২০১৮ সালের আগে রাজ্যের চাহিদার মাত্র ৩৫ শতাংশ ফুল স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হত, এখন তা বেড়ে ৮৯ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে বাইরে থেকে আমদানির প্রয়োজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

তিনি আরও জানান, খোলা মাঠের পাশাপাশি এখন সুরক্ষিত কাঠামোর মধ্যে আধুনিক পদ্ধতিতে অর্কিড, জারবেরা ও অ্যান্থুরিয়াম চাষ করা হচ্ছে। আগে যেখানে এই ধরনের চাষ হত ২২৫টি ইউনিটে, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৫০৪টি। সুরক্ষিত চাষের হার ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৩ শতাংশে পৌঁছেছে। রাজ্যে ফুলের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পেশা হল কৃষিকাজ। আমরা কৃষকদের সেই সম্মান দিয়েই দেখি। ফুল ও শিশুকে ভালোবাসে না—এমন মানুষ ভালো মানুষ হতে পারে না। ফুল মানুষের মন পরিবর্তন করতে পারে, মানুষকে আরও মানবিক করে তোলে।

Leave a Reply