অ্যাসিড হামলা রোধে কড়া আইন ও ক্ষতিপূরণ–পুনর্বাসনে জোর, রাজ্যসভায় জানাল কেন্দ্র

নয়াদিল্লি, ৪ ফেব্রুয়ারী : নারী ও কন্যাদের সুরক্ষা কেন্দ্র সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার—রাজ্যসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী। তিনি বলেন, অ্যাসিড হামলা প্রতিরোধ, অপরাধীদের শাস্তি এবং বেঁচে ফেরা ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে বিস্তৃত আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, সংবিধান অনুযায়ী ‘পুলিশ’ ও ‘জনশৃঙ্খলা’ রাজ্যের বিষয় হলেও, নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ মোকাবিলায় রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রচেষ্টাকে সহায়তা করতে কেন্দ্র শক্তিশালী আইন, পরামর্শিকা ও বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছে।

নতুন আইনি কাঠামো: ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩–এ অ্যাসিড হামলাকে পৃথক ও গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে (১ জুলাই ২০২৪ থেকে কার্যকর)। ধারা ১২৪ অনুযায়ী ন্যূনতম ১০ বছরের কারাদণ্ড, যা আজীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে, এবং ভুক্তভোগীর চিকিৎসা খরচ মেটাতে উপযুক্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। অ্যাসিড হামলার চেষ্টা করলেও ৫ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার শাস্তি—যাতে গুরুতর আঘাত না হলেও কঠোর প্রতিরোধ তৈরি হয়।

ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন: ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩–এর ধারা ৩৯৬ অনুযায়ী প্রত্যেক রাজ্যকে ভুক্তভোগী ক্ষতিপূরণ প্রকল্প তৈরি করতে বলা হয়েছে, যা আদালতের জরিমানার অতিরিক্ত হিসেবে প্রাপ্য। সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এ ধরনের প্রকল্প বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এ উদ্দেশ্যে ২০১৬–১৭ সালে নির্ভয়া তহবিল থেকে কেন্দ্রীয় ভুক্তভোগী ক্ষতিপূরণ তহবিলে এককালীন ২০০ কোটি টাকা দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

সুপ্রিম কোর্টের নিপুণ সাক্সেনা বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া মামলার নির্দেশনা মেনে ন্যাশনাল লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটি যৌন নির্যাতনসহ অ্যাসিড হামলার শিকার নারীদের জন্য ক্ষতিপূরণ বাড়িয়েছে এবং চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে পৃথক স্কিম চালু করেছে।

অ্যাসিড বিক্রি নিয়ন্ত্রণ: ক্ষয়কারী রাসায়নিকের অপব্যবহার রুখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজ্যগুলিকে পরামর্শিকা ও মডেল পয়জনস রুলস দিয়েছে, যাতে অ্যাসিড ও রাসায়নিকের বিক্রি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং অপরাধে সহজলভ্য না থাকে।

মিশন শক্তি ও সহায়তা পরিষেবা: নারীর সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নের ছাতার তলায় ‘মিশন শক্তি’ চালু রয়েছে। ওয়ান স্টপ সেন্টারগুলিতে চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, পুলিশ সহায়তা, আইনি সাহায্য ও অস্থায়ী আশ্রয়—সমন্বিত পরিষেবা দেওয়া হয়। ২৪×৭ টোল-ফ্রি মহিলা হেল্পলাইন (১৮১), যা জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা (১১২)-র সঙ্গে সংযুক্ত, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত দেশে ৯.৬ মিলিয়নের বেশি নারীকে সহায়তা করেছে। কেন্দ্রের সহায়তায় ১৪,৬০০–র বেশি পুলিশ স্টেশনে উইমেন হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে।

ক্ষমতাবৃদ্ধি ও সচেতনতা: ব্যুরো অব পুলিশ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পুলিশ, প্রসিকিউটর ও মেডিক্যাল অফিসারদের প্রশিক্ষণ, উইমেন হেল্প ডেস্কের স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর এবং জেন্ডার সংবেদনশীলতা বিষয়ক ওয়েবিনার আয়োজন করেছে। জাতীয় মহিলা কমিশন ও রাজ্যস্তরের সংস্থাগুলিও সচেতনতা কর্মসূচি চালাচ্ছে এবং অভিযোগগুলির দ্রুত নিষ্পত্তিতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে।

মন্ত্রী জানান, নারী ও কন্যাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ চালিয়ে যাবে কেন্দ্র।

Leave a Reply