সোনম ওয়াংচুকের আটক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি, ‘বাংলাদেশ-নেপাল ধাঁচের আন্দোলন উসকানি’ অভিযোগ কেন্দ্রের

নয়াদিল্লি, ২ ফেব্রুয়ারী : লাদাখের পরিবেশ কর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের জাতীয় নিরাপত্তা আইনে আটকাদেশকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে কেন্দ্র সরকার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। কেন্দ্রের দাবি, ওয়াংচুক ইচ্ছাকৃতভাবে এমন বক্তব্য দিয়েছেন যা তরুণ প্রজন্মকে উসকে দিয়ে বাংলাদেশ ও নেপালের মতো পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা।

সোমবার শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ওয়াংচুকের বক্তব্য “বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবণতা” উস্কে দেয়। আদালতে তিনি দাবি করেন, ওয়াংচুক নাকি বলেছেন— “আমার বিরুদ্ধে এফআইআর হলে কী হবে… বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মানুষ পরিবর্তন এনেছে”— এই ধরনের মন্তব্যই জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আটকাদেশ জারির জন্য যথেষ্ট ছিল।

মেহতার বক্তব্য, ওয়াংচুক অহিংসার কথা বললেও আসলে তিনি “নেপাল ও বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি” লাদাখে তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, ওয়াংচুক এমন একটি ঘটনার উল্লেখ করেছিলেন যেখানে এক বিক্রেতার আত্মাহুতি ২০১১ সালের আরব বসন্ত আন্দোলনের সূচনা করেছিল। সরকারের মতে, এর মাধ্যমে তিনি ‘জেন-জি’ প্রজন্মকে উত্তেজিত করতে চেয়েছিলেন।

এই মামলার শুনানি করছেন বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি প্রসন্ন বি বরালে। বিষয়টি পুনরায় শুনানির জন্য মঙ্গলবার তালিকাভুক্ত হয়েছে।

ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর পক্ষে সওয়াল করা সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিবাল আদালতে জানান, আটকাদেশ পুরনো বা ‘স্টেল’ এফআইআর-এর ভিত্তিতে জারি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, যে ভিডিওগুলির ওপর নির্ভর করে আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলির অংশবিশেষ বেছে নিয়ে দেখানো হয়েছে।
সিবাল আরও বলেন, ওয়াংচুক হিন্দু দেবদেবী সম্পর্কে কোনও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন—এই অভিযোগও ভিত্তিহীন।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ ওয়াংচুককে এনএসএ-র আওতায় আটক করা হয়। পরে তাঁকে জোধপুরে স্থানান্তরিত করা হয়। তাঁর আটক হওয়ার দু’দিন আগে লাদাখে রাজ্যত্ব ও ষষ্ঠ তফসিলভুক্তির দাবিতে হওয়া বিক্ষোভে হিংসার ঘটনায় চারজনের মৃত্যু ও প্রায় ৯০ জন আহত হন। সেই হিংসা উসকে দেওয়ার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।

এনএসএ আইনে সরকার কোনও ব্যক্তিকে জনশৃঙ্খলা বা জাতীয় নিরাপত্তার সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করলে আগাম আটক করতে পারে। ওয়াংচুকের আটকাদেশকে চ্যালেঞ্জ করেই এই মামলা দায়ের হয়েছে।

Leave a Reply