আগরতলা, ২ ফেব্রুয়ারি: পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলী যোজনার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে আরও নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ীভাবে পৌঁছে দিতে ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড (টিএসইসিএল)-এর সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেড-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো দু’দিনব্যাপী বিশেষ সোলার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। টিএসইসিএল-এর মিলনায়তনে আয়োজিত এই কর্মশালায় বিভিন্ন সোলার ভেন্ডার ও বিলিং সুপারভাইজার মিলিয়ে মোট ৫৬ জন অংশগ্রহণ করেন।
এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির গুরুত্ব কেবল একটি কর্মশালার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জিআইজেড দীর্ঘদিন ধরে ভারতে নবায়নযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাই এবার ত্রিপুরার সোলার টেকনিশিয়ানদের হাতে-কলমে তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপনের কৌশল শেখানো হয়। কংক্রিটের ছাদ, টিনের চাল কিংবা খোলা জমিতে কীভাবে নিরাপদ, শক্তপোক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী সোলার ইনস্টলেশন করা যায়, তা আধুনিক টুল, ডিজাইন সফটওয়্যার এবং আন্তর্জাতিক মানের সেফটি প্রটোকল অনুসরণ করে প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি গ্রিড-সংযুক্ত ও হাইব্রিড পিভি সিস্টেমের নকশা, ইনস্টলেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটিকে আরও কার্যকর করে তোলে।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী টেকনিশিয়ান ও ভেন্ডাররা জানান, এই কর্মশালার মাধ্যমে তারা আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছেন। এর সরাসরি সুফল পাবেন সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা। কারণ উন্নত প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ানদের মাধ্যমে স্থাপিত সোলার প্যানেল হবে আরও টেকসই, নিরাপদ এবং কম রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়সাপেক্ষ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, জিআইজেড-এর ‘সূর্য মিত্র’ স্কিলিং প্রোগ্রাম, iRISE প্রকল্প এবং ইন্দো-জার্মান সৌর অংশীদারিত্বের মতো উদ্যোগ ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে দক্ষ সোলার কর্মশক্তি গড়ে তুলেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ত্রিপুরায় এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রাজ্যের ক্লিন ও গ্রীন এনার্জি লক্ষ্যে নতুন গতি যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এই উপলক্ষে টিএসইসিএল-এর ব্যবস্থাপক অধিকর্তা বিশ্বজিৎ বসু সাধারণ মানুষকে পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলী যোজনায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান ও গ্রাহক-বান্ধব পরিষেবার মাধ্যমে এই যোজনা শুধু বিদ্যুৎ বিল শূন্যে নামিয়ে আনবে না, বরং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রির মাধ্যমে আয়ের সুযোগও সৃষ্টি করবে। সব মিলিয়ে, জিআইজেড-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার অংশগ্রহণ এই প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে আরও সুদৃঢ় করছে।



















