আগরতলা, ২ ফেব্রুয়ারি: ককবরক ভাষায় রোমান হরফ চালুর দাবিতে গত ২৯ জানুয়ারি দিল্লিতে সিবিএসই চেয়ারম্যান রাহুল সিনহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিপরা মথার পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। সিবিএসই চেয়ারম্যানের কাছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ককবরক ভাষা রোমান হরফে গ্রহণের দাবিতে একটি ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়। দিল্লি সফরের পর সোমবার আগরতলার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বসেন তিপরা মথার নেতৃত্ব।
সাংবাদিক সম্মেলনে রবীন্দ্র দেববর্মা জানান, দিল্লিতে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল সিবিএসই চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠকে বসেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন টিটিএএডিসি-র কার্যনির্বাহী সদস্য রবীন্দ্র দেববর্মা, বিশ্বজিৎ কলই, উমাশঙ্কর দেববর্মা, দিলীপ রিয়াং এবং মানব দেববর্মা। চলতি শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ইতিমধ্যেই ছাপা হয়ে যাওয়ায় এ বছর রোমান হরফে ককবরক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা সম্ভব নয় বলে সিবিএসই চেয়ারম্যান জানিয়েছেন। তবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এদিন তিনি আরও বলেন, সিবিএসই চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল—এই বিষয়ে ত্রিপুরা সরকারের তরফ থেকে কোনও লিখিত আবেদন বা চিঠি পাঠানো হয়েছে কি না। উত্তরে চেয়ারম্যান স্পষ্টভাবে জানান, তিনি এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের কাছ থেকে কোনও চিঠি পাননি। অথচ গত ১৪ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তিপরা মথার প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের সময় রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সিবিএসই চেয়ারম্যানকে চিঠি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন রবীন্দ্র দেববর্মা।
সাংবাদিক সম্মেলনে ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি ড. ধনঞ্জয় গণচৌধুরির বিরুদ্ধেও তীব্র অভিযোগ তোলেন তিপরা মথার নেতা। তাঁর অভিযোগ, পর্ষদ সভাপতির সাম্প্রতিক মন্তব্য অসাংবিধানিক এবং ককবরক ভাষার ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক। ককবরক পরীক্ষায় রোমান হরফ ব্যবহার করলে গ্রেফতার করা হবে—এমন বক্তব্য ককবরক ভাষার উপর সরাসরি আঘাত বলে দাবি করেন তিনি। এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তিপরা মথা।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলন থেকেই আগামী দিনের একটি কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করা হয়। জানানো হয়, তিপরা মথার কর্মচারী সংগঠন ‘তিপ্রা এমপ্লয়িজ ফেডারেশন’-এর উদ্যোগে আগামী ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি খুমুলুঙে এক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। ওই সম্মেলনে রাজ্যের কর্মচারীদের বকেয়া প্রাপ্য, শিক্ষক ও কর্মচারী সংকটসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সম্মেলনে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তিপরা মথার সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণের।
উল্লেখ্য, আসন্ন টিটিএএডিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে ককবরক ভাষা এবং কর্মচারীদের সমস্যা ও দাবিকে প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছে তিপরা মথা। এই ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াইয়ে নামতে চাইছে দলটি। যদিও এডিসি এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পেনশন প্রদান, বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং প্রশাসনিক অডিটের মতো একাধিক ক্ষেত্রে ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে এডিসি প্রশাসনের বিরুদ্ধে।



















