কলকাতা, ১ জানুয়ারি : চলতি বছরে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগেই পুরোদস্তুর প্রচারে নামলো তৃণমূল কংগ্রেস। আজ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে শুরু হলো ‘বাংলার সমর্থনে সংযোগ’ প্রচার কর্মসূচি। এই প্রচারের মাধ্যমে রাজ্যের ১৫ বছরের শাসনের কাজের রিপোর্ট কার্ড বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রচার কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের প্রায় ১,৮০০ জন বিশিষ্ট মানুষের বাড়িতে পৌঁছে যাবে রিপোর্ট কার্ড। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচির জন্য মোট ৩৮টি দল গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি দলে সাংসদ, বিধায়ক এবং জেলা ও ব্লক স্তরের নেতৃত্ব থাকবেন। বিশিষ্টদের জন্য একটি করে কিটও পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে থাকবে মুখ্যমন্ত্রীর লেখা চিঠি এবং ‘উন্নয়নের পাঁচালি’।
দ্বিতীয় পর্যায়ের জনসংযোগ কর্মসূচির নাম রাখা হয়েছে ‘উন্নয়নের সংলাপ’। এটি বুথ স্তরে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে জনগণের মধ্যে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের কথা তুলে ধরা হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগও এই প্রচারে জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।
আগামিকাল থেকেই জেলা সফরে যাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই দলের অভ্যন্তরে নেতাদের মধ্যে দূরত্ব ঘোচানোর জন্য কড়া বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক। দলীয় প্রচারের সঙ্গে সম্পর্কিত যে কোনো কাজেও শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের নজরদারি রাখবে। কর্মীদের একসাথে কাজ করার ব্যাপারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দিয়েছেন।
এদিন, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকল কর্মী ও সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, “১৯৯৮ সালের আজকের দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের পথচলা শুরু হয়েছিল। আমাদের দলের মূল উদ্দেশ্য দেশমাতৃকার সম্মান, বাংলার উন্নয়ন এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা। এই ঐতিহাসিক যাত্রাপথে আমাদের প্রতিটি কর্মী-সমর্থক অঙ্গীকারবদ্ধ এবং তাঁদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় আমরা অবিচল। কোনও অপশক্তির কাছে মাথা নত না করে, সাধারণ মানুষের জন্য আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।”
এছাড়া, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কর্মীদের একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা সকলেই একত্রিত হয়ে দলীয় কাজের দিকে মনোনিবেশ করবো, যাতে আগামী নির্বাচনে জনগণের কাছে আমাদের কাজের ফলাফল পৌঁছাতে পারে।”



















