বিশাখাপত্তনম, ১২ ডিসেম্বর: অন্ধ্রপ্রদেশের আল্লুরি সীতারামারাজু জেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নয়জন তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে এবং ২৩ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার ভোরে চিন্তুর–নারেদুমিল্লি ঘাট রোডে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, তীক্ষ্ণ বাঁক নিতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। বাসটি প্রথমে সেফটি ওয়ালে ধাক্কা খেয়ে গভীর খাদে পড়ে যায়। বাসটিতে মোট ৩৭ জন যাত্রী ছিলেন, যার মধ্যে দুইজন চালকও অন্তর্ভুক্ত। তারা সকলেই চিত্তুর জেলার বাসিন্দা এবং আরাকু থেকে তেলেঙ্গানার ভদ্রাচলম মন্দিরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। উত্তর আন্ধ্র ও তেলেঙ্গানার বিভিন্ন মন্দিরে তীর্থযাত্রার অংশ হিসেবে তারা ভ্রমণে ছিলেন।
দুর্ঘটনাস্থলে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় ঘটনাটি পুলিশের কাছে পৌঁছাতে দেরি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে নয়জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের চিন্তুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ভদ্রাচলম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য পাঁচটি পুলিশ গাড়ি এবং তিনটি অ্যাম্বুল্যান্স মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এলাকায় ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। চালক ওই এলাকা সম্পর্কে অপরিচিত ছিলেন বলেও মনে করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু। তিনি দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের রিপোর্ট চান এবং আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন। গৃহমন্ত্রী ভি. অনিতা এবং তফসিলি জনজাতি ও মহিলা-শিশুকল্যাণ মন্ত্রী জি. সন্দ্যা রানি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন এবং জেলার কালেক্টর ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
রাজ্যে বাড়তে থাকা সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গত মাসে মুখ্যমন্ত্রী তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে দুর্ঘটনা নিরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন। রোড সেফটি কাউন্সিল বৈঠকে তিনি জানান, চলতি বছরে আন্ধ্র প্রদেশে ১৫,৪৬২টি দুর্ঘটনায় ৬,৪৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৭৯% দুর্ঘটনা অতিরিক্ত গতির কারণে, ৩% ভুল দিকের গাড়ি চালানোর কারণে এবং ১% মদ্যপ অবস্থায় বা মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে ঘটে। সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় আন্ধ্র প্রদেশ অষ্টম স্থানে রয়েছে।



















