আগরতলা, ১১ নভেম্বর : ভারতের ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (সিআইটিইউ)-এর ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির ১৬তম রাজ্য সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় আগরতলার টাউন হলে। রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন জেলা ও উপশাখা কমিটির প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে যোগদান করেন।
সম্মেলনের সমাপ্তি দিবসে উপস্থিত ছিলেন সিআইটিইউ-র বহু বর্ষীয় নেতৃত্ব, প্রতিনিধিরা এবং শতাধিক শ্রমজীবী কর্মী। দীর্ঘ আলোচনার পর সম্মেলন থেকে সর্বসম্মতিক্রমে পুনরায় সভাপতি পদে কমরেড মানিক দে এবং সাধারণ সম্পাদক পদে কমরেড শংকর প্রসাদ দত্ত নির্বাচিত হন। এছাড়াও মোট ২৩ জন সদস্যের নতুন সম্পাদকমণ্ডলী গঠন করা হয়েছে, যারা আগামী দিনের সংগঠনিক ও আন্দোলনমূলক কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন।
সম্মেলন শেষে এক সাংবাদিক বৈঠকে সাধারণ সম্পাদক শংকর প্রসাদ দত্ত বলেন, “এই বছরের সিআইটিইউ রাজ্য সম্মেলনের জনসভা ছিল সাম্প্রতিক কালের মধ্যে সবচেয়ে বড় শ্রমিক জমায়েত। প্রায় ২৫ হাজার কর্মী ও সমর্থক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। যদিও বিভিন্ন স্থানে বি.এম.এস.-এর উদ্যোগে আমাদের সমর্থকদের আটকে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, যানবাহন রোধ করা হয়েছে, কিন্তু এই বাধা-বিপত্তি শ্রমিক শ্রেণিকে থামাতে পারেনি।”
তিনি আরও বলেন, “এই সম্মেলনে মূল আলোচনার বিষয় ছিল কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের শ্রমিক-বিরোধী, জনবিরোধী এবং কর্পোরেটমুখী নীতির বিরুদ্ধে সংগঠিত আন্দোলনকে আরও তীব্র করা। একইসঙ্গে রাজ্যে গণতন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম জোরদার করারও প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।”
সম্মেলন থেকে ১৬ দফা দাবি সনদ অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে — কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা, ন্যূনতম মজুরির বৃদ্ধিসহ শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ও পেনশন ব্যবস্থা সুদৃঢ় করা, এবং সরকারি-বেসরকারি খাতে শ্রমিকদের শোষণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
তিনি জানান, এই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে ধারাবাহিক আন্দোলন, বিক্ষোভ ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। দুই দিনব্যাপী এই রাজ্য সম্মেলন সিআইটিইউ-র সাংগঠনিক ঐক্য ও সংগ্রামী অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করেছে বলে নেতারা দাবি করেন।



















