নয়াদিল্লি/আইজল, ৭ নভেম্বর : ভারত–মিয়ানমার সংযোগযুক্ত একটি আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের মূলহোতা হিসেবে সন্দেহভাজন এক নারীকে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করেছে মিজোরাম পুলিশ। শুক্রবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অভিযানে দিল্লি পুলিশেরও সহায়তা ছিল।
একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পৃথক এক অভিযানে মিজোরামের সাইতুয়াল থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার সূত্রে দিল্লির চাণক্য প্লেস এলাকা থেকে জোসেফ লিয়ানথাংপুইয়া (৪২) নামে এক পাচারকারীকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই মামলা মিজোরামের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ হেরোইন উদ্ধার সংক্রান্ত যেখানে গত ২৩ আগস্ট একটি গাড়ি থেকে ১৫ কেজি হেরোইন জব্দ করা হয়েছিল। কর্মকর্তা জানান, লিয়ানথাংপুইয়াকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিজোরামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এছাড়া, মিজোরামের চাম্পাই জেলার জোখাওথার থানার পুলিশ দল, দিল্লি পুলিশ ও স্পেশাল ব্যুরোর সহায়তায় লালছুয়ানথাঙ্গি (৫০) নামে এক নারীকে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করে।
তিনি জানান, ওই নারী এনডিপিএস আইন, ১৯৮৫ এবং ফরেনার্স অ্যাক্টের অধীনে জোখাওথার থানায় দায়ের হওয়া মামলার মূল সংযোগকারী। তাঁকে ভারত–মিয়ানমার সীমান্তে সক্রিয় একটি আন্তঃদেশীয় মাদক পাচার চক্রের মূল হোতা হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এই মামলায় গত ১০ জুলাই চাম্পাই জেলার সীমান্তবর্তী কুদামসেন কাই এলাকায় ৭.৪২২ কেজি ইটের মতো আকৃতির হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এই মামলায় ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, লালছুয়ানথাঙ্গি পূর্বে থাইল্যান্ডে মাদক মামলায় ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কারাবন্দি ছিলেন। এছাড়া ২০২৩ সালে কেরালায় এক অর্থ কেলেঙ্কারি মামলায় জামিনে মুক্ত ছিলেন।
কর্মকর্তারা জানান, তিনি মিজোরামের আইজল জেলার খাটলা সাউথ এলাকার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে দিল্লিতে বসবাস করছিলেন। বহু মাসের নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের পর পুলিশ অবশেষে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। দিল্লির দ্বারকা আদালত থেকে ট্রানজিট রিমান্ডের অনুমতি নিয়ে তাঁকে মিজোরামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, মিজোরামের ১১টির মধ্যে অন্তত ৬টি জেলা চাম্পাই, সিয়াহা, লওংতলাই, হনাথিয়াল, সাইতুয়াল ও সারচিপ মিয়ানমারের সঙ্গে ৫১০ কিলোমিটার দীর্ঘ অনাবৃত সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। এই সীমান্তই মূলত হেরোইন ও মেথামফেটামিনসহ বিভিন্ন মাদকের পাচার রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

