News Flash

  • Home
  • ত্রিপুরা
  • আজাদ হিন্দ দিবসে নেতাজির স্মৃতিচারণ আমরা বাঙালি দলের
Image

আজাদ হিন্দ দিবসে নেতাজির স্মৃতিচারণ আমরা বাঙালি দলের

আগরতলা, ২১ অক্টোবর: আজ “আমরা বাঙালি” সংগঠনের রাজ্য কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সচিব গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল, যুগ্ম ও প্রচার সচিব দুলাল ঘোষ, এবং কার্যালয় সচিব গীতাঞ্জলি দেবী।
রাজ্য সচিব গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল তাঁর বক্তব্যে স্মরণ করান, ১৯৪৩ সালের ২১ অক্টোবর সিঙ্গাপুরের মাটিতে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু আজাদ হিন্দ সরকারের প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বলেন, “এই আজাদ হিন্দ সরকারই প্রথম ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।”

তিনি আরও জানান, নেতাজী উপলব্ধি করেছিলেন যে, ইংরেজদের হাত থেকে ভারতকে মুক্ত করতে বিদেশি শক্তির সহযোগিতা অপরিহার্য। তাই জাপানের সহায়তায় আজাদ হিন্দ সরকার গঠন করা হয়। নেতাজী বিদেশে থাকা ভারতীয় যুদ্ধবন্দী ও বিভিন্ন দেশের বিপ্লবীদের সংগঠিত করে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন।

গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল বলেন, “নেতাজীই প্রথম আন্দামান দ্বীপে স্বাধীন
ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং দ্বীপটির নাম দেন স্বরাজ দ্বীপ। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি আজও অমলিন।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই আজাদ হিন্দ সরকার ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ অস্থায়ী সরকার—যার নিজস্ব মুদ্রা, বিচারব্যবস্থা, ডাক টিকিট ও দণ্ডবিধি ছিল। বিশ্বের একাধিক দেশ—যেমন জার্মানি, ইতালি, জাপান, থাইল্যান্ড, বার্মা, ফিলিপাইন ও ক্রোয়েশিয়া—এই সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

রাজ্য সচিবের মতে, আজাদ হিন্দ বাহিনীই সুভাষচন্দ্র বসুকে “নেতাজী” উপাধিতে ভূষিত করে। এই বাহিনী আন্দামান দখলের পর ভারতের মণিপুর ও নাগাল্যান্ড পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রসদের ঘাটতি এবং দেশীয় নেতৃত্বের অসহযোগিতার কারণে নেতাজীর অভিযান শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।
তিনি বলেন, “যদি সে সময় দেশীয় নেতৃত্বরা সহযোগিতা করতেন, তাহলে হয়তো দেশভাগ ঘটত না। নেতাজীর স্বপ্ন ছিল অখণ্ড ভারতের স্বাধীনতা ও প্রতিটি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি।”
গৌরাঙ্গবাবু অভিযোগ করেন, “কংগ্রেসের কিছু নরমপন্থী নেতা পূর্ণ স্বাধীনতার পরিবর্তে স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে ছিলেন। আবার কমিউনিস্ট পার্টি নেতাজীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছিল। তৎকালীন সময়ে হিন্দু মহাসভা ও মুসলিম লীগও তাঁকে সহযোগিতা করেনি। ফলে নেতাজীর অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মতাদর্শে ভিন্ন হলেও বাঙালির স্বার্থের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করে বাঙালিকে ভাসমান জাতিতে পরিণত করা হয়েছে। অথচ স্বাধীনতা সংগ্রামে সর্বাধিক আত্মবলিদান দিয়েছিল বাঙালিরাই।”
সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে “আমরা বাঙালি” সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দেশবাসীকে নেতাজীর আদর্শ ও অর্থনৈতিক চিন্তাধারাকে সামনে রেখে জাতীয় ঐক্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

Releated Posts

ভীষ্মদেব স্মৃতি শিশু নাট্য প্রতিযোগিতার সূচনা, অংশ নিচ্ছে ১৩টি বিদ্যালয় ও নাট্যদল

আগরতলা, ১১ জুন: পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা ভিত্তিক দু’দিনব্যাপী ভীষ্মদেব স্মৃতি শিশু নাট্য প্রতিযোগিতা বুধবার আগরতলার মুক্তধারা প্রেক্ষাগৃহে শুরু…

ByByReshmi Debnath Jun 11, 2026

মাটিবাহী ট্রাকের দৌরাত্ম্যে বেহাল বৃদ্ধিনগর–আর কে নগর সড়ক, দ্রুত মেরামতের দাবিতে ক্ষোভ স্থানীয়দের

আগরতলা, ১১ জুন: মাটিবাহী ট্রাকের লাগামহীন যাতায়াতের কারণে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে বৃদ্ধিনগর থেকে কালিনগর হয়ে আর কে…

ByByReshmi Debnath Jun 11, 2026

ডাক পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে ২৫ জুন ডাক আদালত

আগরতলা, ১১ জুন : ডাক পরিষেবা সংক্রান্ত জনসাধারণের বিভিন্ন অভিযোগ ও সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আগামী ২৫ জুন…

ByByTaniya Chakraborty Jun 11, 2026

২০২০ সালের আইন অমান্য আন্দোলনের মামলায় আদালতে হাজির বিধায়ক বীরজিত সিনহা ও আইনজীবী পূজন বিশ্বাস

আগরতলা, ১০ জুন: ২০২০ সালে কংগ্রেসের ডাকা আইন অমান্য আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি মামলায় বুধবার আদালতে…

ByByReshmi Debnath Jun 11, 2026
Scroll to Top