পরিকাঠামো ও অব্যবস্থাপনার বিতর্কের মাঝে সিদ্দারামাইয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ

বেঙ্গালুরু, ২১ অক্টোবর : পরিকাঠামো ও অব্যবস্থাপনার বিতর্কের মাঝে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার কর্ণাটককে একটিও রুপি দিচ্ছে না, অথচ রাজ্যটি আয়কর সহ বিভিন্ন করের মাধ্যমে দিল্লিকে বিপুল অর্থ দেয়। এমনকি জিএসটি সংস্কারেরও তিনি কঠোর সমালোচনা করেন।

সিদ্দারামাইয়ার অভিযোগ, “মুম্বাই ও দিল্লি বাদ দিলে কর্ণাটক দেশের মধ্যে সর্বাধিক কর প্রদানকারী রাজ্যগুলির মধ্যে অন্যতম। আমরা প্রতি রুপিতে ৮৫ পয়সা কেন্দ্রকে দিচ্ছি, অথচ ফিরে পাচ্ছি মাত্র ১৪-১৫ পয়সা। এটা কি ন্যায্যতা?” – এই প্রশ্ন তুলে তিনি রাজ্যের মানুষের উদ্দেশে বলেন, “এই সত্য আপনাদের জানা উচিত।”

সিদ্দারামাইয়া আরও বলেন, কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে রাজ্যের বিজেপি নেতারা কোনও কথা বলেন না। বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্য এবং শোভা করন্দলাজের বিরুদ্ধে তিনি নাম করে কটাক্ষ করে বলেন, “ওই দক্ষিণী এমপি, তেজস্বী সূর্য, আমি ওকে বলি ‘অমাবস্যা’। আর শোভা করন্দলাজে, ওনারাও কিছু বলেন না এই বিষয়ে। জনগণ ওদের ভোট দেন, অথচ ওরা কোনও প্রশ্ন তোলে না।”

সম্প্রতি জিএসটি কাউন্সিল ভারতীয় পরোক্ষ কর ব্যবস্থার একটি বড় সংস্কার করেছে। বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী, ওষুধ, ছোট গাড়ি ও যন্ত্রপাতির উপর কর হ্রাস করা হয়েছে। কর কাঠামো সহজ করতে ৫% এবং ১৮% দুটি স্তরে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। কেন্দ্র বলছে, এটি মানুষের জন্য ‘উপহার’, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী এই দাবিকে খণ্ডন করেছেন।

তিনি বলেন, “আট বছর ধরে উচ্চ হারে কর আদায় করেছে। এখন এসে বলছে এটা ‘দেওয়ালির গিফট’। মোদীর ছবি দিয়ে প্রচার করছে। এটা কি আদৌ উপহার? না কি রাজ্যের সঙ্গে অন্যায়? এটা কি আমাদের সহ্য করা উচিত?”

এই বিতর্ক এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন বেঙ্গালুরুর পরিকাঠামো নিয়ে প্রবল সমালোচনা চলছে। প্রাক্তন ইনফোসিস সিএফও মোহনদাস পাই এবং বায়োকন চেয়ারপার্সন কিরণ মজুমদার শ’ শহরের রাস্তাঘাট ও যানজট নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

গত সপ্তাহে শ’ এক বিদেশি অতিথির মন্তব্য শেয়ার করেন, যেখানে বেঙ্গালুরুর রাস্তা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে তীব্রভাবে সমালোচনা করা হয়। এর জবাবে উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও বেঙ্গালুরু উন্নয়নমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার বলেন, “শহরের জন্য একত্রিত প্রয়াস দরকার, শুধু সমালোচনা নয়।”

সিদ্দারামাইয়া আরও বলেন, কেন্দ্রের কাছ থেকে রাজ্য নানা প্রকল্পের জন্য যে অনুদান পাওয়ার কথা, তা এখনও মেলেনি। এর মধ্যে রয়েছে ভদ্রা বাঁধ প্রকল্প, গরিব ও প্রবীণ নাগরিকদের পেনশন, এবং মনরেগা প্রকল্পে বরাদ্দ অনুদান।

এই মাসের শুরুতেই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, কেন্দ্র যদি কর্ণাটককে তার প্রাপ্য অনুদান না দেয়, তবে তিনি প্রয়োজনে আদালতের শরণাপন্ন হবেন।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিজেপির পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে কর্ণাটক বিজেপি নেতা আর অশোক দাবি করেন, “বর্তমান কংগ্রেস সরকার বছরের শেষের আগেই পড়ে যাবে।”

সিদ্দারামাইয়ার এই আক্রমণ নতুন করে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েনকে সামনে এনে দিয়েছে। কর্ণাটকের আর্থিক বঞ্চনা, বেঙ্গালুরুর পরিকাঠামোগত দুরবস্থা এবং রাজনীতিকদের ‘নীরবতা’ — এই তিনটি বিষয়ই এখন রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য যে আগামী দিনে রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন তুলবে, তা নিশ্চিত।