শিলং, ১৩ অক্টোবর : দুই বছর ধরে চলা মণিপুরের জাতিগত সংঘাতের সমাধানে একটি সম্মিলিত রোডম্যাপ তৈরি করতে শিলংয়ে উচ্চপর্যায়ের এক সম্মেলনে মিলিত হন কুকি-জো সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। ‘শিলং কনক্লেভ’ নামে পরিচিত এই বৈঠকে অংশ নেন সিভিল সোসাইটি সংগঠন, আইনজ্ঞ, জাতীয় ও আঞ্চলিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এবং ‘সাসপেনশন অফ অপারেশনস’ চুক্তির আওতায় থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর সদস্যরা।
সম্মেলনের শেষে অংশগ্রহণকারীরা একটি বিস্তৃত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সংবিধানসম্মত রাজনৈতিক সমাধানের জন্য জোরালো আহ্বান জানান। তারা উল্লেখ করেন, মেইতেই ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা এবং পুনর্মিলনের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত জরুরি। একইসাথে, গৃহচ্যুত পরিবার ও সহিংসতার শিকারদের সুবিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সম্মেলনে মূল রাজনৈতিক দাবিসমূহের মধ্যে ছিল সংবিধানের ২৩৯এ অনুচ্ছেদের অধীনে একটি বিধানসভাসম্পন্ন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের আহ্বান। প্রতিনিধিরা বলেন, এটি কুকি-জো জনগণের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং এর মাধ্যমে একমাত্র স্থায়ী শান্তির পথ সুগম হতে পারে।
এছাড়াও, কুকি-জো সম্প্রদায়ের জমি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতির সুরক্ষায় সংবিধানের ২৪৪ অনুচ্ছেদের অধীনে একটি বিশেষ সুরক্ষা কাঠামো অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। আলোচকরা মনে করেন, এই ধরনের সাংবিধানিক গ্যারান্টি ঐতিহাসিকভাবে চলা বঞ্চনা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্মেলনে চলমান জাতিগত উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতার দাবি জানান, যাতে জনসাধারণের মধ্যে আস্থা ফিরে আসে এবং জাতিগত বিভাজন আরও না বাড়ে। বক্তারা স্পষ্ট করেন, নিরপেক্ষ ও ন্যায়নিষ্ঠ শাসন ছাড়া স্থায়ী শান্তি অর্জন অসম্ভব।
সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় কুকি-জো সম্প্রদায়ের সমস্ত সিভিল সোসাইটি সংগঠনের মধ্যে ঐক্য ও সমন্বয়ের প্রতিশ্রুতি নিয়ে। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে আরও সংলাপ ও পরামর্শমূলক কর্মসূচি নেওয়া হবে, যাতে দ্রুত রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছনো যায় এবং আত্মনির্ভরতা, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় কুকি-জো অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে।

