বার্বাডোস, ১০ অক্টোবর: বার্বাডোসের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে লোকসভার স্পিকার ৬৯তম কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্সের ফাঁকে লোকসভার স্পিকার ওম বিরলার নেতৃত্বে একটি ভারতীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদল (আইপিডি) বার্বাডোসের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পরিদর্শন করেছে। প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বার্বাডোসের হাউস অফ অ্যাসেম্বলির স্পিকার হিজ এক্সেলেন্সি মি. আর্থার হোল্ডার। এই সফরে, আইপিডি সদস্যরা এবং বার্বাডিয়ান আইনপ্রণেতারা পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের আদান-প্রদান এবং আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলিতে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে আলোচনা করেন।
বার্বাডোস হাউস অফ অ্যাসেম্বলির স্পিকার হিজ এক্সেলেন্সি মি. আর্থার হোল্ডার ভারতীয় প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরিদর্শনের সময় শ্রী ওম বিরলা বার্বাডোস সংসদের সেই ঐতিহাসিক স্পিকারের চেয়ারটি প্রত্যক্ষ করেন, যা ১৯৬৬ সালে বার্বাডোসের স্বাধীনতা উপলক্ষে ভারত সরকার উপহার দিয়েছিল। ভারতীয় সেগুন কাঠে নির্মিত, খোদাই করা চেয়ারটির গায়ে লেখা আছে, ফ্রম দ্য পিপল অফ ইন্ডিয়া টু দ্য পিপল অব বার্বাডোস যা দুই দেশের গভীর বন্ধন ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক চিরন্তন প্রতীক।
শ্রী বিরলা এই চেয়ারটিকে ভারত-বার্বাডোস বন্ধুত্বের এক জীবন্ত উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এই চেয়ার শুধু একটি আসন নয়; এটি দুই গণতান্ত্রিক দেশের অভিন্ন মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। সফরের সময় ভারত ও বার্বাডোসের আইনপ্রণেতারা গণতন্ত্র, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। দুই পক্ষই আগামী দিনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীরতর করার জন্য নিয়মিত সংসদীয় বিনিময়ের ওপর জোর দেন।
বার্বাডোসে বসবাসরত ভারতীয় প্রবাসীদের সঙ্গে এক আন্তরিক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন শ্রী ওম বিরলা। তিনি প্রবাসীদের কঠোর পরিশ্রম, সততা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, আপনারা ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন; আপনাদের কাজের মাধ্যমে ভারতের ভাবমূর্তি বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, কীভাবে প্রবাসীরা দিওয়ালি, হোলি, নবরাত্রি এবং গণেশ চতুর্থীর মতো উৎসব উদযাপনের মাধ্যমে বার্বাডোসে এক উদাহরণযোগ্য সাংস্কৃতিক সহাবস্থান সৃষ্টি করেছেন। রামায়ণ ও মহাভারতের নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ধর্ম, সত্য ও কর্তব্য – এই মূলনীতি প্রবাসীদের জীবনে আলোর পথ দেখাচ্ছে।
নতুন প্রজন্মকে ভারতীয় ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে সংযুক্ত রাখার গুরুত্ব আরোপ করে শ্রী বিরলা অভিভাবকদের আহ্বান জানান, আপনাদের সন্তানদের মাতৃভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করান। এটাই ভারতের জীবন্ত পরিচয় ভবিষ্যতের প্রজন্মে পৌঁছে দেবে।
শ্রী বিরলা অস্ট্রেলিয়ান সেনেটের প্রেসিডেন্ট হার এক্সেলেন্সি মিজ সু লাইনসের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। ২০২০ সালের কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ অনুসারে ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের বিস্তারকে স্বাগত জানানো হয়। শ্রী বিরলা ভারতের ডিজিটাল সংসদ’, বহুভাষিক এআই-চালিত সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তিনির্ভর সংসদীয় স্বচ্ছতা বৃদ্ধির উদ্যোগগুলোর ওপর আলোকপাত করেন।
তিনি মিজ লাইনসকে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ২৮তম কমনওয়েলথ স্পিকার্স কনফারেন্স -এ অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।বার্বাডোসের স্পিকার মি. হোল্ডারের সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে জাতিসংঘ, জি-৭৭, এবং ক্যারিকম- এর মতো ফোরামে যৌথ কণ্ঠস্বর এবং ন্যায়সঙ্গত সংস্কারের প্রতি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত হয়। আলোচনায় উদীয়মান প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সংসদকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। শ্রী বিরলা মি. হোল্ডারকেও ২৮তম যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানান।
কমনওয়েলথ সম্মেলনের ফাঁকে শ্রী বিরলা জ্যামাইকার স্পিকার মিজ জুলিয়েট হোলনেস এবং জাম্বিয়ার স্পিকার মিজ নেলি মুত্তি-র সঙ্গে পৃথক বৈঠকে অংশ নেন। আলোচনা হয় -এর সহায়তায় সংসদীয় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত সংসদীয় প্রতিনিধিদল বিনিময় নিয়ে। শ্রী বিরলা দুই নেতাকেই ২৮তম তে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, ভারত ও জাম্বিয়ার বন্ধুত্ব শুধু ঐতিহাসিক নয়, এটি ভবিষ্যতের পথ নির্মাণেও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সংসদীয় প্রযুক্তি ব্যবস্থায় ভারতের অগ্রগতি অন্য দেশগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।
লোকসভার স্পিকারের এই বার্বাডোস সফর ভারত-বার্বাডোস দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সংসদ গঠনের লক্ষ্যে উভয় দেশের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে আরও ফলপ্রসূ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

