নয়াদিল্লি, ১০ অক্টোবর : মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে বিষাক্ত কাশির সিরাপ সেবনে একাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলা শুক্রবার খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি ডি.ওয়াই. চন্দ্রচূড়ের স্থলাভিষিক্ত প্রধান বিচারপতি বি.আর. গাভাই এবং বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেয়।
আবেদনকারী আইনজীবী বিশাল তিওয়ারির কাছে প্রধান বিচারপতি জানতে চান, তিনি এতদিনে কতগুলি পিআইএল দায়ের করেছেন। উত্তরে তিওয়ারি বলেন, ৮ থেকে ১০টি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছি। এরপরই আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।
সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বলা হয়েছিল, গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই মহারাষ্ট্রের নাগপুর এবং মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়ারা জেলার বাসিন্দা। ওই শিশুরা তামিলনাড়ুর ওষুধ ‘কোল্ডরিফ কফ সিরাপ’ সেবন করেছিল।
মধ্যপ্রদেশ সরকারের ল্যাব রিপোর্টে সিরাপে ডাইথিলিন গ্লাইকল-এর উপস্থিতি ধরা পড়ে। এটি একটি শিল্পপ্রযুক্তিতে ব্যবহৃত বিষাক্ত দ্রাবক, যা ওষুধে ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
তবে শুনানির সময়, আদালতে উপস্থিত সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা জানান, রাজ্য সরকারগুলি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় তদন্তের কোনও প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, “তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশসহ অন্যান্য রাজ্য ব্যবস্থা নিচ্ছে। রাজ্যগুলোর উপর আমাদের আস্থা রাখা উচিত।”
তথাপি, পিআইএল-এ দাবি করা হয়েছিল, এত বড় বিপর্যয়ের পরেও কেন্দ্র সরকার কিংবা কেন্দ্রীয় ওষুধ মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সময়মতো জাতীয় পর্যায়ে ওষুধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়নি। এতে বিষাক্ত ওষুধ বাজারে অবাধে বিক্রি হয়েছে।
আবেদনে গাম্বিয়া ও উজবেকিস্তানে ডিইজি-যুক্ত ভারতীয় সিরাপের কারণে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও তুলে ধরা হয়। বলা হয়, এটি কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়, বরং অবহেলা, নিয়ন্ত্রক ব্যর্থতা এবং একটি পচন ধরা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার পরিণতি।
পিআইএল-এ একটি জাতীয় বিচারিক কমিশন অথবা বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়, যার নেতৃত্বে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। কমিটির কাজ হবে বিষাক্ত সিরাপ তৈরির প্রক্রিয়া, নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা ও বিতরণ নিয়ে তদন্ত করা এবং দেশের ওষুধ নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংস্কারে সুপারিশ করা।
এছাড়াও, সিবিআই-এর মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানানো হয় শিশু মৃত্যুর ঘটনাগুলি নিয়ে। সমস্ত রাজ্যে দায়ের হওয়া এফআইআর একত্র করে একক তদন্তের আওতায় আনার আবেদনও জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানের স্বাস্থ্য দফতরের সচিবদের কাছে নোটিশ পাঠিয়েছে। ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই) এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রককে বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরুর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
তবে সুপ্রিম কোর্ট মনে করছে, এই মুহূর্তে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তাই আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়।


















