আগরতলা, ৯ সেপ্টেম্বর : গতকাল রাতে উত্তর জেলার জেলা সদর ধর্মনগরে ভারতীয় মজদুর সংঘের (বিএমএম) কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে রণক্ষেত্রের পরিবেশ তৈরি হয়। শহরের ব্যস্ত সেন্ট্রাল রোড এলাকায় আচমকাই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে শুরু হয় তীব্র হাতাহাতি ও সংঘর্ষ। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আব্দুল মুনাফ নামের এক ব্যক্তি। বর্তমানে তিনি ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সামান্য কথাকাটাকাটিই মুহূর্তে ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বহুদিন ধরেই বিএমএসের নেতৃত্ব নিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চলছিল। সোমবার রাতের ঘটনা সেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বেরই প্রকাশ্য বহিঃপ্রকাশ।ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে ধর্মনগর থানার পুলিশ ও পরে ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (টিএসআর) জওয়ানরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবুও রাতেই দুই পক্ষ থানার সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে, পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কিতেও জড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত থানার ওসি মিনা দেববর্মা ও মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বি. জরিন পুইয়া হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দেন।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে উত্তেজনা থেমে থাকেনি। মঙ্গলবার সকালে বিএমএস কর্মী-সমর্থকেরা হামলার প্রতিবাদে ধর্মনগর শহর কার্যত অচল করে দেন। অবরোধ ও বিক্ষোভের জেরে সকাল থেকে শহরের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।বিক্ষোভকারীদের দাবি— হামলায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে এবং পুলিশের হেফাজতে থাকা বিএমএসের দুই কর্মীকে নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে।
এ ঘটনায় সাধারণ মানুষ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, শ্রমিক সংগঠনের এই অন্তর্দ্বন্দ্ব এখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য যন্ত্রণার কারন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।



















