নয়াদিল্লি, ৯ সেপ্টেম্বর : এনডিএ প্রার্থী এবং মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল সি.পি. রাধাকৃষ্ণন ভারতের নতুন উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটগণনায় তিনি ৪৫২টি ভোট পেয়ে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লকের প্রার্থী বি. সুদর্শন রেড্ডিকে পরাজিত করেছেন। সুদর্শন রেড্ডি ৩০০টি ভোট পেয়েছেন।
আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ চলেছে। ভোটারদের মধ্যে ৯৮ শতাংশের বেশি সাংসদ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হয় ভোট গণনা। ফলাফল প্রকাশ করেন রাজ্যসভার সচিব ও রিটার্নিং অফিসার পি.সি. মোদী। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ৭৬৭টি ভোটের মধ্যে ৭৫২টি বৈধ এবং ১৫টি অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়েছে। ১৩ জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন।
বিজু জনতা দল(বিজেডি), শিরোমণি আকালি দল(এসএডি) এবং ভারত রাষ্ট্র সমিতি (বইআরএস) পূর্বেই ভোটদানে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বিরত থাকা সদস্যদের মধ্যে ছিলেন বি.জে.ডি-র ৭ জন সাংসদ, তেলেঙ্গানা ও পাঞ্জাবের সাংসদগণ এবং একজন স্বতন্ত্র সদস্য।
উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মোট ৭৮৮ জন সাংসদ ভোট দিতে পারেন। যদিও বর্তমানে ৭৮১ জন সদস্য যোগ্য। এনডিএ-র দখলে ছিল ৪৩৯টি ভোট, যার সাথে ওয়াইএসআর কংগ্রেসের সমর্থন পাওয়ায় রাধাকৃষ্ণনের জয় অনেকটাই নিশ্চিত ছিল। অপরদিকে, সুদর্শন রেড্ডি ইন্ডিয়া ব্লক ছাড়াও আপ (আম আদমি পার্টি)-এর সমর্থন পেয়েছেন।
সি.পি. রাধাকৃষ্ণনের জয় এনডিএ-র ধারাবাহিক সাফল্যকেই নির্দেশ করে। ২০২২ সালে জগদীপ ধনখর ৫২৮টি ভোট পেয়ে উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ২০১৭-তে বেঙ্কাইয়া নাইডু পেয়েছিলেন ৫১৬টি ভোট। তুলনামূলকভাবে রাধাকৃষ্ণনের প্রাপ্ত ভোট কম হলেও তা যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে।
উপ-রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন সি.পি. রাধাকৃষ্ণন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করবেন এবং রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে বা শূন্যপদে দায়িত্ব সামলাবেন। ভারতীয় সংবিধানের ৬৪ ও ৬৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই নির্বাচন পরিচালিত হয়েছে।
বিরোধী প্রার্থী বি. সুদর্শন রেড্ডি ভোটে হেরে এক বিবৃতিতে বলেন, আমি এই ফলাফলকে বিনম্রভাবে মেনে নিচ্ছি। গণতন্ত্রের প্রতি আমার অটল বিশ্বাস রয়েছে। এটা শুধু একটি নির্বাচন নয়, এটি ছিল সংবিধান, ন্যায়বিচার এবং মানুষের মর্যাদার লড়াই। আমি বিরোধী দলগুলিকে কৃতজ্ঞতা জানাই, যারা আমাকে সম্মিলিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করেছিল।
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, ২০২২ সালের তুলনায় বিরোধী জোট এবার ৪০ শতাংশ ভোট পেয়েছে, যা গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এনডিএ-র জয় সংখ্যার খেলা হলেও, আদর্শিক লড়াই এখনও চলবে। অপরদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক্স-এ লিখেছেন, আপনার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও মাটির সঙ্গে জুড়ে থাকা নেতৃত্ব সংসদের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে। আপনাকে শুভেচ্ছা জানাই।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ২০২৫ সালের ভাইস-প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী থিরু সি.পি. রাধাকৃষ্ণনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক্স-এ দেওয়া বার্তায় প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ২০২৫ সালের ভাইস-প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভের জন্য থিরু সি.পি. রাধাকৃষ্ণন জিকে অভিনন্দন। সমাজসেবা এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের ক্ষমতায়নের জন্য তাঁর জীবন বরাবরই উৎসর্গিত। আমি নিশ্চিত, তিনি একজন উৎকৃষ্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট হবেন, যিনি আমাদের সংবিধানিক মূল্যবোধকে আরও দৃঢ় করবেন এবং সংসদীয় আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করবেন।



















