News Flash

Image

“মণিপুর সফর… কবে?”: প্রধানমন্ত্রীর সহানুভূতির অভাব নিয়ে কংগ্রেসের প্রশ্ন

১৫ জুন : বিদেশ সফরে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল কংগ্রেস। পার্টির অভিযোগ, যেখানে প্রধানমন্ত্রী একের পর এক বিদেশ সফরে সময়, শক্তি ও উৎসাহ ঢেলে দিচ্ছেন, সেখানে মণিপুরের চলমান সংকটে তিনি একবারও সহানুভূতি দেখাননি—এটাই দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।

প্রধানমন্ত্রী মোদি আজ সকালে সাইপ্রাস, কানাডা ও ক্রোয়েশিয়ায় তিন-দেশীয় সফরে রওনা দিয়েছেন। সেই প্রেক্ষিতে কংগ্রেসের মুখপাত্র ও সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এক্স-এ লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী যখন বিদেশ সফরের জন্য ‘উৎসাহ, উত্তেজনা ও উদ্যম’ দেখাতে পারেন, তখন তিনি মণিপুরের মানুষের যন্ত্রণা অনুভব করতে ‘সহানুভূতি’ কেন দেখাতে পারেন না?”

জয়রাম রমেশের বক্তব্য অনুযায়ী, মে ২০২৩ থেকে এ পর্যন্ত এটি মোদির ৩৫তম বিদেশ সফর। অথচ গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মণিপুর জ্বলছে জাতিগত সংঘর্ষে, যেখানে ২২০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তথাপি প্রধানমন্ত্রী এখনও রাজ্যের কোনো প্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ পর্যন্ত করেননি, যা ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন রমেশ।

কানাডা সফর নিয়ে কটাক্ষ করে কংগ্রেস নেতার বক্তব্য, “একসময় মোদি কানাডার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বোঝাতে (a+b)² সূত্র ব্যবহার করেছিলেন। আজ সেই সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তা আমরা সবাই জানি।” তিনি আরও জানান, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি স্পষ্ট করেছেন যে, ভারতের মতো বৃহৎ অর্থনীতিকে G7 সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রমেশ খোঁচা দিয়ে বলেন, “সম্ভবত মোদি তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিতে পারেন যে, নীতি আয়োগের সিইও-র মতে, ভারত ২০২৫ সালের ২৪ মে থেকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠেছে।”

প্রধানমন্ত্রীর তিন-দেশ সফরসূচি অনুযায়ী, প্রথমে তিনি সাইপ্রাস যাবেন প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডুলাইডেস-এর আমন্ত্রণে। এরপর কানাডার কানানাসকিস শহরে ১৬-১৭ জুন অনুষ্ঠিতব্য G7 শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন, এবং শেষে ১৮ জুন ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে প্লেনকোভিচ-এর আমন্ত্রণে সে দেশে সরকারি সফর করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর একটি পুরনো ভিডিও শেয়ার করে রমেশ দেখান, কীভাবে ২০১৫ সালে মোদি গণিত সূত্রের মাধ্যমে ভারত-কানাডা সম্পর্ক ব্যাখ্যা করেছিলেন। আজ সেই প্রেক্ষাপটেই প্রশ্ন উঠছে—এক বছর ধরে জ্বলতে থাকা মণিপুরে প্রধানমন্ত্রী একবারও পা রাখেননি, এটিই কি রাজনৈতিক নিষ্ঠুরতা ও অসমতা-এর চূড়ান্ত উদাহরণ নয়?

উল্লেখ্য, মণিপুরে মেইতেই ও কুকি-জো জনগোষ্ঠীর মধ্যে জাতিগত সংঘর্ষ মে ২০২৩ থেকে এখনও অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সংকট সামাল দেওয়ার পদ্ধতি ও প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে প্রশ্ন তুলছে।

Releated Posts

শিলং হিংসার পর অসম-মেঘালয় সীমান্তে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরেছে: মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা

শিলং, ২৪ আগস্ট (আইএএনএস): শিলংয়ে ১৯ আগস্টের হিংসাত্মক ঘটনার পর অসম ও মেঘালয়ের মধ্যে যানবাহন ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের…

ByByNews Desk Aug 24, 2026

মণিপুরে ৮ জঙ্গি গ্রেফতার, ধৃতদের মধ্যে এনআইএ মামলার পলাতক অভিযুক্তও

ইম্ফল, ২৩ আগস্ট (আইএএনএস): মণিপুরের বিভিন্ন জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক যৌথ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৮ জন জঙ্গিকে…

ByByNews Desk Aug 23, 2026

শিলংয়ে হিংসার জেরে অসম থেকে মেঘালয়ে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

গুয়াহাটি, ২২ আগস্ট (আইএএনএস): শিলংয়ে সাম্প্রতিক হিংসাত্মক ঘটনার পর অসম ও মেঘালয়ের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের…

ByByNews Desk Aug 22, 2026

১৯০৪-০৫ সালের ভূমি নথি কামাখ্যার চিরন্তন ঐতিহ্যের সাক্ষ্য: হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

গুয়াহাটি, ২২ আগস্ট (আইএএনএস): ১৯০৪-০৫ সালের একটি ঐতিহাসিক ভূমি নথিকে মা কামাখ্যার চিরন্তন আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ…

ByByNews Desk Aug 22, 2026
Scroll to Top