প্রশাসনের আশ্বাস বাস্তবায়িত হচ্ছে না, দেওরাছড়ার রিয়াংরা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে

( বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য)
আগরতলা, ৬ জুন : গ্রামে প্রবেশ করার কোন রাস্তা নেই। ছড়া অতিক্রম করার জন্য কোন বাঁশের সাকো বা পুল নেই। লোহার পাত ফেলে তার উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পাড়াপাড় করতে হয়। কৈলাসহর গৌরনগর ব্লকের দেওয়াছড়া ভিলেজের চল্লিশটি রিয়াং পরিবার দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।

রিয়াং কলোনির আদিম জনজাতিরা জানান, যে ১৯৮৪ সাল থেকে তারা সেখানে বসবাস করছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এলাকায় প্রবেশ করার জন্য কোনও রাস্তা নেই। কংগ্রেস উপজাতি যুব সমিতি জোট সরকারের আমলে একটি মাটির রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হয়ে ছিল। এরপর কোন রাস্তা তৈরি করা হয়নি। মাঝে মধ্যে রাজনৈতিক নেতাদের রিয়াং কলোনিতে পদধূলি পড়তে দেখা যায়। নেতারা এসে না না উন্নয়নের কথা বলে যান। কিন্তু সময় চলে যাওয়ার পর আর কাউ কে খুঁজে পাওয়া যায় না।

কলোনি প্রবেশ করার জন্য ছড়ার উপর যে সাঁকোটি রয়েছে যেটি দিয়ে বাজার কিংবা অন্যত্র যাতা য়াত করতে হয় সেই সাঁকো টির অবস্থাও বর্তমানে ভয়ংকর। গত দুইমাস পূর্বে এলাকার এক ছাত্র এই সাঁকোটি পাড় হতে গিয়ে ছিটকে নিচে পড়ে গিয়ে হাত ভেঙে ফেলে। এর পূর্বেও বেশ কয়েকজন সাঁকো থেকে পড়ে মারা ত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খাদ্য এই মৌলিক অধিকার সবার রয়েছে।কিন্তু রিয়াংকলো নীতে সে গুলির অনেকটাই নেই।রিয়াংরা জানায় পঠন-পাঠনের জন্য একটি বিদ্যালয় রয়েছে। তবে সেই বিদ্যালয়ে যেতে হলে কলোনির ছাত্রছাত্রীদের জীবন ঝুঁকি নিয়ে যেতে হচ্ছে। মুমূর্ষু রোগীদের এই রুগ্ন সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে গিয়ে দারুন সমস্যা মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সমস্যা হচ্ছে বেশি এবং বিপজ্জনক। ন্যায্য মূল্যের দোকান থেকে জিনিসপত্র ক্রয় করে তারা এই সাঁকো দিয়ে নিয়ে যেতে হলে অনেক ঝুঁকি নিয়ে যেতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে এই এলাকার লোকেরা যে ন বর্তমানে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। কলোনির লোকেরা জানায় পানীয় জলের জন্য ছড়া কিবা ফিশারির উপর নির্ভরশীল। অথচ সেই ছড়াতেই এলাকার ছেলেমে য়েরা গরমের মধ্যে নেমে খেলাধুলা করছে।

এই জল পান করে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। কলোনিতে রি য়াং সম্প্রদায়ের বসবাস থাকলেও আশপাশ এলাকায় বহু ডার্লং সম্প্র দায়ের লোকের বসবাস করছে। গত ফেব্রুয়ারী মাসে কলোনি এলা কায় তিনটি বাড়িতে আগুন লাগে। সেই আগুন থাংটুয়মা ডার্লং, চন্দ্র রায় রিয়াং, এলিয়াকিমা ডার্লং-এর ঘর জ্বলে যায়। এলাকাবাসীরা দমকল দপ্তরে খবর দিলেও দমকল দপ্তরের কর্মীরা এসে দাঁড়িয়ে শুধু দৃশ্যটি দেখে যান। কারণ সেই এলাকায় যাবার মতো রাস্তা নেই।

এলাকাবাসীরা আরও অভিযোগ করেছেন, আগুনে যাদের বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তারা সরকারি সাহায্য পায়নি। অগ্নিকান্ডের পর মহকুমাশাসক অফিসের ডিসিএম মতিরঞ্জন দেববর্মা পরিদর্শন করে গেলেও আজ পর্যন্ত মহকুমাশাসক তাদের ক্ষতিপূরণের কাগজে স্বাক্ষ র করেননি।তারা জনায় বিপর্য য় মোকাবিলা ফাণ্ড থেকে যদি তারা কিছু অর্থ পেতেন তাহলে তাদের পুনরায় বাড়িঘরগুলি তৈরি করতে কিছুটা সাহায্য হতো। তবে আগুন লাগার পর দেওড়াছড়া এডিসি ভিলেজের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীরা তাদেরকে সাধ্যমতো সাহায্য করেছে। পার্শ্ববর্তী কলোনির ডার্লং বাসিন্দারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে সম্প্রীতির নতুন নজির তৈরি করে।স্বাধীন ভারতবর্ষ দীর্ঘ পথ অতিক্রম করলেও এই এলাকার রিয়াং রা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত। কলোনির বয়স প্রায় একচল্লিশ বছর। কিন্তু আজ পর্যন্ত যাতায়াতের রাস্তা তৈরি করা হয়নি।