চেন্নাই, ৫ মে : চেন্নাই ও মাদুরাইয়ের পর এবার গোটা তামিলনাড়ু জুড়ে মাদক চোরাচালান ও নকল ওষুধ বিক্রি রুখতে প্রতিটি জেলায় বিশেষ ফ্লাইং স্কোয়াড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের অধীনে এই স্কোয়াড গঠনের প্রাথমিক কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দফতরের কর্মকর্তারা।
গত মাসে বিধানসভায় ব্যয় বরাদ্দের প্রস্তাবের বিতর্কের সময় রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মা সুব্রমানিয়ান এই বিশেষ ফ্লাইং স্কোয়াড গঠনের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ঘুমের ওষুধের মতো নেশাজাতীয় ওষুধের অবৈধ সরবরাহ ও পাচার রোধ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ঘোষণার পরেই খাদ্য নিরাপত্তা ও ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে।
দফতরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই স্কোয়াডগুলির মূল উদ্দেশ্য হল মাদক সেবন এবং নকল, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির মতো বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।
তিনি বলেন, “এই স্কোয়াডগুলিতে থাকবেন ড্রাগ ইন্সপেক্টররা। তাঁরা পুলিশ, ফুড সেফটি দফতর সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করবেন। সরকার ইতিমধ্যেই এই উদ্যোগকে অনুমোদন দিয়েছে যাতে ফার্মাসিউটিক্যাল সরবরাহ শৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত ওষুধগুলির উপর নজরদারি বাড়ানো যায়।”
এই স্কোয়াডগুলি গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কুরিয়ার ও অনলাইন পরিষেবার মাধ্যমে বেআইনি ওষুধ সরবরাহের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও আকস্মিক অভিযান চালাবে। এতে জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি ওষুধ শিল্পের স্বচ্ছতাও বজায় থাকবে বলে জানান তিনি।
চেন্নাই ও মাদুরাইতে এই স্কোয়াড ইতিমধ্যেই সীমিত জনবল নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এবার গোটা রাজ্যে এটি সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি জোনে দুটি করে জেলা রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী দল গঠন করা হবে।
তবে দফতরের এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন, “আমাদের বর্তমানে অপ্রতুল জনবল নিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। এই প্রকল্প চালু হলে চাপ আরও বাড়বে। আমরা এই প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে জনবল সংক্রান্ত ঘাটতির তালিকা সদর দফতরে পাঠিয়েছি। আশা করছি, খুব শীঘ্রই অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করা হবে।”



















