আগরতলা, ২৭ মে (হি. স.) : তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিও মোহভঙ্গ হল ত্রিপুরায় সুরমা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক আশীস দাসের। বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার জন্য মাথা মুড়িয়ে প্রায়শ্চিত্ত করেছিলেন তিনি এবং তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন। আজ সাফ জানালেন, তৃণমূল কংগ্রেসে থাকছি না। ২০২৩ সালে নির্দল হয়ে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। তিনি আজ তীব্র কটাক্ষের সুরে বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে বিজেপির পরকীয়া চলছে।
তিনি বলেন, বামেদের অপশাসন থেকে ত্রিপুরার মানুষের মুক্তির আশায় বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলাম। ২০১৮ সালে সেই আশা পূরণ হয়েছিল। কিন্তু, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি খেলাপের প্রবণতায় বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ হয়েছে।
তাঁর দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের নীতির বিরোধিতায় বিজেপি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলাম। তাই, মাথা মুড়িয়ে প্রায়শ্চিত্ত করেছিলাম। তাঁর কথায়, বিজেপি ত্রিপুরায় এক অরাজক পরিস্থিতি কায়েম করেছে। তাই, তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে হাত মিলিয়ে ত্রিপুরাবাসীকে আবারও মুক্তির পথে নেওয়ার চিন্তাভাবনা ছিল আমার। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রিক দল শুধুও মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়েছে।
তিনি তৃনমূল নেতৃত্বের দিকে নিশানা করে বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরায় ঘাঁটি গেড়ে বসবেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগরতলায় বিশাল জনসভা করবেন এবং একাধিকবার ত্রিপুরায় আসবেন, এমন স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। কিন্তু, পুর ও নগর নির্বাচনে চুড়ান্ত ভড়াডুবি হওয়ার পর অভিষেক ত্রিপুরামুখী হচ্ছেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর দিবাস্বপ্ন দেখার মতোই অবাস্তব।
এদিন তিনি নাম না করে পশ্চিমবঙ্গের সাথে ত্রিপুরার কয়েকজন নেতার দিকে আঙ্গুল তুলেছেন। মানুষের বদলে ব্যক্তিস্বার্থই তাঁদের কাছে প্রাধান্য, তোপ দাগেন তিনি। তাঁর কথায়, ত্রিপুরা নিয়ে তৃণমূলের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। জাতীয় স্তরে দলের অস্তিত্ব জাহির করাই তাঁদের লক্ষ্য এবং একমাত্র উদ্দেশ্য। তিনি আজ চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে বিজেপির পরকীয়া চলছে। একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই কেবলই লোকদেখানো।
তিনি বলেন, দলত্যাগ বিরোধী আইনের গ্যাড়াকলে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্ভব নয়। তবে, ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবই। সাথে তিনি উপনির্বাচনে নির্দল প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আহবান জানিয়েছেন।এদিকে আশীষ দাস সম্পর্কে তৃণমূল কংগ্রেস ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সভাপতি সুবল ভৌমিকও বিদ্রুপ করতে ছাড়েননি। তাঁর কথায়, আশীষ দাসকে নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না। কারণ তিনি বেশিরভাগই ক্ষেত্রেই নিজের ইচ্ছায় বিবৃতি জারি করেছেন। কখনও তিনি একা গান্ধী মূর্তির সামনে বা অন্যত্র বসে থাকতেন এবং যখন ভালো বুঝতেন তখন তিনি নিজের মাথা কামিয়ে বা কাপড় খুলে ফেলতেন। সুবলের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেও আশীষ দাসকে কখনোই দলীয় কর্মসূচীতে অংশ নিতে দেখা যায়নি।

তৃণমূলেও মোহভঙ্গ প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক আশীষ দাসের, দলীয় কর্মসূচীতে কখনোই তাঁকে দেখা যায়নি, দাবি সুবলের
Tags:
Releated Posts
ত্রিপুরায় সিএএ-র আওতায় ২০টির বেশি আবেদন, দুইজন পেলেন ভারতীয় নাগরিকত্ব
আগরতলা, ১২ জুন: নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন বা সিএএ-এর আওতায় ত্রিপুরায় এ পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫টি আবেদন জমা পড়েছে।…
রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারকে চাকরি দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার: রতন লাল নাথ
আগরতলা, ১২ জুন: রাজনৈতিক হিংসায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের যোগ্য সদস্যদের সরকারি চাকরি প্রদানের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে…
সরকারি আশ্বাসে প্রত্যাহার অবরোধ, স্বাভাবিক হল সড়ক ও রেলপথ
আগরতলা, ১২ জুন: ত্রিপুরায় ত্রিপাক্ষিক শান্তি চুক্তির দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিতে ডাকা সড়ক ও রেল অবরোধকে কেন্দ্র…
(Update) ৭২ ঘণ্টার সড়ক-রেল অবরোধে বিপর্যস্ত জনজীবন, শান্তিচুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনে আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিরা
আগরতলা, ১২ জুন: ২০২৪ সালের শান্তিচুক্তির আওতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আত্মসমর্পণকারী এনএলএফটি ও এটিটিএফ -এর প্রাক্তন…


















