BRAKING NEWS

আফসপা’ প্রত্যাহার করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি, সিদ্ধান্ত নাগাল্যান্ড মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে

কোহিমা (নাগাল্যান্ড), ৭ ডিসেম্বর (হি.স.) : নাগাল্যান্ডের মন জেলায় সংঘটিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য থেকে আর্মড ফোর্সেস (স্পেশাল পাওয়ার) অ্যাক্ট, ১৯৫৮; বাংলায় সশস্ত্র বাহিনী (বিশেষ ক্ষমতা) আইন, ১৯৫৮ (আফসপা) প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে জরুরি চিঠি পাঠাবে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি, কোহিমার কিসামায় চলমান রাজ্যের প্রধান উৎসব ‘হৰ্নবিল ফেস্টিভ্যাল, ২০২১’ মাঝপথে সমাপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার রাজ্য মন্ত্রিসভার এক জরুরি বৈঠক এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়েছে।


রাজ্য সচিবালয়ে মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে ক্যাবিনেট বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের তথ্য দিতে গিয়ে রাজ্য সরকারের মুখপাত্র তথা পরিকল্পনা মন্ত্রী নিবা ক্রনু বলেছেন, মম জেলায় সংঘটিত মর্মন্তুদ এবং পরবর্তী ঘটনা নিয়ে আলোচনা করার জন্য আজ মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন জেলার ওটিং গ্ৰামে সংঘটিত ঘটনার তদন্ত করতে একজন আইজিপির নেতৃত্বে আরও চার আধিকারিককে নিয়ে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এসআইটি তার তদন্ত শেষ করে এক মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে।


তিনি জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্য থেকে আর্মড ফোর্সেস (স্পেশাল পাওয়ার) অ্যাক্ট, ১৯৫৮ প্রত্যাহার করতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জরুরি চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা রাষ্ট্রপতির কাছে কন্যাক ইউনিয়নের দাবি সংবলিত চিঠিকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


এছাড়া মন জেলায় বিরাজমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে জেলাশাসক কর্তৃক জারিকৃত নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে মন জেলা স্কুল শিক্ষা অধিদফতর বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলেছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ৬ ডিসেম্বর থেকে যে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের (স্টেট বোর্ড, সিবিএসই) পরীক্ষা চলার কথা ছিল, তা স্থগিত রাখা হয়েছে। পরীক্ষা স্থাগিত সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্তেও মন্ত্রিসভা সায় দিয়েছে।
কেবল তা-ই নয়, কমিশনার-সচিব আই কিটো ঝিমোমি (আইআরএস) ঘোষণা করেছেন, রাজ্য মন্ত্রিসভা ‘হৰ্নবিল ফেস্টিভ্যাল, ২০২১’ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ নির্দিষ্ট সময়ের আগে মাঝপথে প্রধান উৎসব বন্ধ করে দেওয়ার জন্য তিনি নাগাল্যান্ড সরকারের তরফে পর্যটক এবং রাজ্যবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, মন-এর ঘটনা নাগাল্যান্ড ভ্রমণে পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করবে না। এ প্রসঙ্গে পর্যটকদের নাগাল্যান্ডের মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ারও আহ্বান জানান কমিশনার-সচিব। ঝিমোমি আরও বলেন, আজ থেকে সব উৎসব বন্ধ থাকবে। তবে কারিগর ও তাঁদের দ্বারা পরিচালিত খাবারের স্টল এবং অন্যান্য বিপণি খোলা থাকবে।


উল্লেখ্য, মন জেলায় সংঘটিত ঘটনার পর ‘হৰ্নবিল ফেস্টিভ্যাল, ২০২১’-এ অংশগ্রহণকারী সকলেই উৎসব বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। ৪ ডিসেম্বর মন জেলার ওটিং গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর সশস্ত্র হামলায় ১৫ জনের মৃত্যুর প্রতিবাদে ছয়টি নাগা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে গঠিত ‘দ্য ইস্টার্ন নাগাল্যান্ড পিউপিলস্ অর্গানাইজেশন’ (ইএনপিও) এবং ‘কন্যাক ইউনিয়ন’ চলমান হর্নবিল ফেস্টিভ্যাল-২০২১-এ অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার ঘোষণা করেছিল ঘটনার দিনএ। আজ রাজ্য সরকারও এই অনুষ্ঠান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ১ ডিসেম্বর থেকে কোহিমার কিসামায় হর্নবিল ফেস্টিভ্যাল শুরু হয়ে ১৫ ডিয়েম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *