নিজস্ব প্রতিনিধি, তেলিয়ামুড়া, ৭ আগস্ট৷৷ গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করল পঞ্চাশোর্ধ এক ব্যক্তি৷ ঘটনা তেলিয়ামুড়া থানা ইচারবিল ডি.বি.আই ইটভাট্টা সংলগ্ণ ক্যানেলের পাশে একটি জঙ্গলে বড়ো গাছে৷ মৃত ব্যক্তির সুনীল দেবনাথ৷
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, তেলিয়ামুড়া থানাধীন ইচারবিল এলাকার বাসিন্দা মৃত দেবেন্দ্র দেবনাথের ৫২ বছর বয়সী ছেলে সুনীল দেবনাথ নিজের স্ত্রী এবং ছেলের সাথে ঝগড়া বিবাদ করে অবশেষে শনিবার বিকেলে বাড়ি থেকে অনতিদূরে ক্যানেলের পাশে একটি ছোট গাছে নিজের গলায় মাছ ধরার জাল কেটে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়৷
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সুনীল ও তার ছেলে প্রায়শই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকতো৷ সর্বদা নেশায় বুঁদ হয়ে বাপ, ছেলের মধ্যে হামেশাই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত৷ তাছাড়া জানা যায় শনিবার সকালেও সুনীল, তার স্ত্রী এবং সুনীলের ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং হাতাহাতি হয়৷
পরবর্তী সময়ে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় সুনীল মাছ ধরার উদ্দেশ্যে৷ ওই সময় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল সুনীল৷
পরবর্তীতে দুপুরে কোন এক সময় নিচের মাছ ধরার চালতি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে সুনীল৷মানুষজন ঘটনা প্রত্যক্ষ করে পরিবার-পরিজনসহ তেলিয়ামুড়া থানায় খবর পাঠায়৷খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ৷ তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ এসে ঘটনা স্থল থেকে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে পরিবার-পরিজন সহ এলাকাবাসীরা বাঁধা দেয় যে ময়নাতদন্তের জন্য সুনীলের মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই৷
সুনীলের মৃত্যুর পেছনে কি রয়েছে অন্য কোন রহস্য? সেই কারণেই কি সুনীলের পরিবারসহ এলাকাবাসীরা বাধা দিচ্ছে ময়নাতদন্তের জন্য? তবে কি ময়নাতদন্ত করলে সুনীল মৃত্যুর আসল রহস্য উদঘাটন হবে সেই ভয়েই কি মৃতদেহ ময়না তদন্ত করার জন্য নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশকে বাধা দান করেছে পরিবার-পরিজন৷
যদিও তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ তদন্তে নেমে প্রাথমিক পর্যায়ে জানতে পারে পারিবারিক কলহের জেরে মৃত্যু হয়েছে সুনীল দেবনাথের৷
সুনীল দেবনাথের মৃত্যুর মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে ময়নাতদন্তের পর৷ ঘটনার তদন্ত এখন তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ৷ রবিবার ময়নাতদন্ত শেষে মৃত ব্যক্তির দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে৷


















