নয়াদিল্লি, ১১ আগস্ট (আইএএনএস): ভিসার শর্ত লঙ্ঘন এবং নির্ধারিত সময়ের বেশি ভারতে অবস্থানের অভিযোগে সাত বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। রাজধানীতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করতে চলা অভিযানের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় জেলার অ্যান্টি-অটো থেফট স্কোয়াড (এএটিএস) ‘অপারেশন ভিস্তা ১.০’ (ভিসা স্ট্যাটাস ভেরিফিকেশন) চালিয়ে এই পদক্ষেপ করেছে।
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া বা ভিসার নিয়ম লঙ্ঘন করে রাজধানীতে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করতে এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়। কেন্দ্রীয় জেলার বিভিন্ন হোটেল, গেস্ট হাউস এবং বিদেশি নাগরিকরা থাকতে পারেন এমন অন্যান্য জায়গায় ব্যাপক যাচাই চালানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, নবী করিম এলাকায় টহল দেওয়ার সময় একটি দল নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর পায় যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তাঁরা সেখানে অবৈধভাবে বসবাস করছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এমডি নজরুল ইসলাম ফয়সাল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে। তিনি বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় ফয়সাল বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিজের পরিচয় দেন এবং বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখান। ঘটনাস্থলেই পাসপোর্ট যাচাই করে পুলিশ জানতে পারে, সেটি ৮ ফেব্রুয়ারি ইস্যু করা হয়েছিল এবং ভারতে তাঁর বৈধ থাকার অনুমতি ছিল ৭ আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও কোনও সরকারি অনুমতি বা মেয়াদ বাড়ানোর ব্যবস্থা ছাড়াই তিনি ভারতে অবস্থান করছিলেন।
দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল দিল্লিতে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করে বসবাসকারী আরও কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের তথ্য দেন। এরপর কেন্দ্রীয় জেলার এএটিএসের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সন্দীপ দাবাসের নির্দেশে একটি বিশেষ দল গঠন করে ওই তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শুরু করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দিল্লির একাধিক জায়গায় অভিযান চালানো হয়। মদনপুর খাদার এবং সরিতা বিহারের জনতা ফ্ল্যাটস-সহ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে আরও ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। তাঁদের পাসপোর্ট, ভিসা এবং অন্যান্য ভ্রমণ সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখা হয়।
অভিবাসন সংক্রান্ত নথি যাচাই করে পুলিশ জানতে পারে, সাতজনই বৈধভাবে ‘ডাবল এন্ট্রি ভিসা’ নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। ওই ভিসার শর্ত অনুযায়ী, প্রতিবার ভারতে সর্বোচ্চ ১৫ দিন থাকার অনুমতি ছিল। কিন্তু ভিসা বৈধ থাকা সত্ত্বেও সাতজনই নির্ধারিত ১৫ দিনের বেশি ভারতে অবস্থান করেন এবং থাকার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য কোনও অনুমতি নেননি।
পুলিশের দাবি, ভিসার এই শর্ত লঙ্ঘন ভারতে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান সংক্রান্ত আইনের আওতায় আইনগত পদক্ষেপের কারণ হয়েছে।
যাচাইয়ের পর সাতজনকেই ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) সামনে হাজির করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে এফআরআরও। পরে তাঁদের আটক রেখে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য রেস্ট্রিকশন অর্ডার জারি করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া সাতজন হলেন—এমডি নজরুল ইসলাম ফয়সাল (২৬), মহম্মদ আমজাদ হোসেন (২৬), মইনুল হোসেন (২৪), আলামিন (২৫), এমডি কাওয়াসে আলি (২৫), আমরান হোসেন (২৯) এবং আফরানুল হক ভূঁইয়া সামি (২৩)। তাঁরা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা।
জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করেছেন যে তাঁরা বৈধ ডাবল এন্ট্রি ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং দিল্লির কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণ অংশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন। ভ্রমণ সংক্রান্ত নথি বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করে দেখা যায়, ভিসা বৈধ থাকলেও প্রতিবার ভারতে সর্বোচ্চ ১৫ দিন থাকার বাধ্যতামূলক শর্ত তাঁরা লঙ্ঘন করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তাঁদের সমস্ত তথ্য অভিবাসন সংক্রান্ত নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। আধিকারিকদের দাবি, অভিবাসন আইন এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই পুরো অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে সাতটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, সাতটি ভারতীয় ডাবল এন্ট্রি ভিসা এবং সাতটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পরবর্তী যাচাই ও আইনগত পদক্ষেপের জন্য সেগুলি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া সাতজনকে সরাই রোহিল্লার শাহজাদা বাগের সেবা ধাম ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সেখানে রাখা হবে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, যাচাইয়ের সময় সাতজনের কারও বিরুদ্ধে পূর্বে কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে বর্তমান পদক্ষেপ শুধুমাত্র ভিসার নির্ধারিত সময়সীমার বেশি ভারতে অবস্থান এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।
— আইএএনএস



















