করিমগঞ্জ (অসম), ২ মার্চ (হি.স.) : বিজেপিকে প্রতিহত করতে রাজ্যে গঠিত হয়েছে কংগ্রেসের নেতৃত্বে সাত দলীয় মহাজোট। জোটের শরিক প্রতিটি দলের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো বিজেপিকে শাসন ক্ষমতার বাইরে রাখা। আর এই উদ্দেশ্যকে শান দিতে কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদরা অসম সফরে এসে দলীয় নেতা কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সঞ্জীবনীর যোগান দেওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রদেশ কংগ্রেস ইতিমধ্যে “আহক অসম বচাও” (আসুন আসাম বাঁচাই) বাস যাত্রার মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় সাধারণ জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়ের কার্যসূচি শুরু করেছে। কিন্তু সমগ্র রাজ্য সহ প্রান্তিক জেলায়ও কংগ্রেসের এই “আসুন আসাম বাঁচাই” কার্যসূচি কার্যত সুপার ফ্লপ শো-য় পরিণত হয়েছে।
সর্বভারতীয় মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী সুস্মিতা দেবের নেতৃত্বে গত বুধবার করিমগঞ্জ জেলায় অনুষ্ঠিত আসুন আসাম বাঁচাই বাসযাত্রায় সাধারণ জনগণের মধ্যে কোনও ধরনের উৎসাহ বা আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়নি। জেলা কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ যে আশা করেছিলেন, বাস্তবে সুস্মিতার বাস যাত্রায় আশানুরূপ প্রভাব পড়েনি। তাইতো বাস যাত্রার প্রতি জেলার সাধারণ জনগণের কোনও সমর্থন ও আগ্রহ না দেখে সুস্মিতা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাস যাত্রা সম্পূর্ণ না করে মাঝপথেই ফিরে যান। জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য “আসুন আসাম বাঁচাই” বাস যাত্রা সফল হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে সুস্মিতার মাঝপথে বাস যাত্রা ছেড়ে চলে যাওয়াটা কিন্তু জেলা কংগ্রেসের জন্য মোটেই শুভ সংকেত নয় বলে জেলার রাজনৈতিক বিজ্ঞ মহলের ধারণা।
এদিকে কংগ্রেসের “আসুন আসাম বাঁচাই” কার্যসূচি এবং মহাজোটের “বিজেপি হটাও” স্লোগানের বিপরীতে বিজেপি “পরিবার সম্পর্ক অভিযান” জোর কদমে শুরু করেছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সফলতা ও জনমুখি প্রকল্পগুলো প্রত্যেক নাগরিকের সামনে তুলে ধরাই হলো এই অভিযানের মুখ্য উদ্দেশ্য। দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে সমগ্র রাজ্যের সঙ্গে করিমগঞ্জ জেলায়ও পরিবার সম্পর্ক অভিযান দলীয় নেতারা জেলার পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে জোর কদমে চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা স্তরের নেতা থেকে শুরু করে বুথ স্তরের নেতা কর্মীরাও এই অভিযান একশো শতাংশ সার্থক করে তুলতে কোমর কষে মাঠে নেমেছেন। প্রতিদিন নিয়ম করে সকাল থেকে রাত অবধি জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের জনগণের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলো সম্বন্ধে জনগণকে ওয়াকিবহাল করছেন।
জেলা বিজেপি সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য, এআইডিসির চেয়ারম্যান মিশন রঞ্জন দাস, প্রদেশ বিজেপির মুখপাত্র বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য, জেলা এসসি বোর্ডের চেয়ারম্যান কৃষ্ণ দাস, জেলা বিজেপির দুই সাধারণ সম্পাদক নির্মল বণিক ও দিলীপ দাস, জেলা সংখ্যালঘু উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ইকবাল হুসেন সহ দলীয় সাংসদ বিধায়করাও এই পরিবার সম্পর্ক অভিযানে শামিল হয়ে বিজেপি দলের চিন্তাধারা ও রাজ্য সরকারের গত পাঁচ বছরের উপলব্ধি সাধারণ জনগণের কাছে তুলে ধরছেন। শহর থেকে গ্রাম গ্রামান্তরে ছুটে বেড়াচ্ছেন তাঁরা। করিমগঞ্জ জেলার চা শ্রমিকদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে রাজ্য সরকার যে সকল প্রকল্প চালু করেছে, পরিবার সম্পর্ক অভিযানের মাধ্যমে সেগুলোও বাগান এলাকার জনগণের কাছে তুলে ধরছেন বিজেপি নেতারা।
করোনা সংকটের সময় সরকার জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে যে ভাবে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো তাও পুনরায় জনগণকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে এবারের নির্বাচনেও রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে সকলের সহোযোগিতা কামনা করছেন বিজেপি নেতারা।
আর্থিক ভাবে দুর্বল শ্রেণির লোকেদের চিকিৎসার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার দ্বারা প্রচলিত অটল অমৃত যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প সহ অরুণোদয় যোজনা, মুখ্যমন্ত্রী সুহৃদ প্রকল্প, উজ্জ্বলা যোজনা, কৃষক সম্মান নিধি, বিকলাঙ্গ ভাতা, ভূমিহীনদের ভূমির ব্যবস্থা করে দেওয়া সহ সর্বানন্দ সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের সফলতা জনগণের কাছে তুলে ধরে সমগ্র জেলা চষে বেড়াচ্ছেন জেলা বিজেপির নেতা, কর্মী সমর্থকরা।



















