করিমগঞ্জ (অসম), ৫ মে (হি.স.) : লকডাউনের ফলে বহিঃরাজ্যে আটকে পড়া নাগরিকদের গৃহরাজ্যে ফিরে আসতে কোনও অনুমতি লাগবে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার এই ঘোষণা কার্যত প্রহসনে পরিণত হয়েছে। মন্ত্রীর এই অভয়বাণীতে প্রতিবেশী রাজ্য মেঘালয়ে আটকে পড়া প্রবাসীদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছিল যে, এবার বোধহয় ঘরে ফিরতে পারবেন। কিন্তু অসম সরকারের এই ঘোষণাকে কোনও পাত্তাই দিচ্ছে না মেঘালয় সরকার। কর্মসূত্রে মেঘালয়ে অবস্থানরত বরাক উপত্যকার নাগরিকরা ঘরে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু মেঘালয় সরকারের এক উদ্ভট সিদ্ধান্তে তাঁদের কাঙ্ক্ষিত আশার গুড়ে বালি পড়েছে।
মেঘালয়ে অবস্থানরত বরাক উপত্যকার বাঙালিদের ঘরে ফিরতে নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এই খবর পেয়ে বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিধায়ক এ ব্যাপারে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে তৎক্ষণাৎ মেঘালয় সরকার এবং অসম সরকারকে পৃথক পৃথক ভাবে পত্র লিখে আবেদন জানান। বিধায়ক কমলাক্ষ স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মাকে এক হাত নিয়ে বলেন, প্রতিবেশী রাজ্য মেঘালয়ে বরাকের লোকদের সঙ্গে সংগঠিত হয়রানির বিরুদ্ধে একটি কথাও বলছেন না তিনি। এই সংকটের সময় রাজ্যের মানুষ বহিঃরাজ্যে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, আর মন্ত্রী মহোদয় শুধু শুধু আশার বাণী শুনিয়ে যাচ্ছেন। বহিঃরাজ্যে থাকা প্রবাসীদের নিজ ঘরে ফিরিয়ে আনতে রাজ্য সরকার আন্তরিক নয় বলেও গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার মাধ্যমে করোনা মহামারি প্রতিরোধে দেশে লকডাউন চলছে। প্রথম দুই পর্যায়ের চল্লিশ দিনের লক ডাউন শেষ হওয়ার পর, তৃতীয় পর্যায়ের ঘোষিত চৌদ্দ দিনের লক ডাউনের ইতিমধ্যে দুদিন চলে গিয়েছে। আর এই টানা লক ডাউনের ফলে বরাকের অনেকেই প্রতিবেশী রাজ্য মেঘালয়ে আটকে রয়েছেন। অসম সরকার আটকে পড়া নাগরিকদের নিজ নিজ বাড়ি ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু মেঘালয় সরকারের নতুন নির্দেশিকায় তাঁরা রীতিমতো বেকায়দায় পড়েছেন। এখন চাইলেই মেঘালয় থেকে অসমে আসা সম্ভব হচ্ছে না। উত্তর পূর্বাঞ্চলে আটকে পড়াদের অসমে আসার জন্য অনুমতির প্রয়োজন হবে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা সদর্পে এই অভয় দিয়েছিলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা শুনে বহিঃরাজ্য থেকে ফেরার জন্য প্রস্তুতিও শুরু করে দেন অনেকেই। কিন্তু মেঘালয় সরকার এবার নতুন এক নির্দেশিকা জারি করেছে।
মেঘালয় সরকারের মুখ্যসচিব মাল্লাম পল্লি শ্রীনিবাস রাও এক নির্দেশে জানিয়েছেন, প্রবাসীদের মেঘালয় ছাড়ার আগে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। অনলাইনে সরকারি অনুমতি পাওয়ার পরই তারা নিজের দায়িত্বে এবং স্বব্যবস্থায় গৃহরাজ্যে ফিরতে পারবেন। এখানেই শেষ নয়। রাজ্য ছাড়ার আগে চারটি এগজিট গেটে তাঁদের স্ক্রিনিং করাতে হবে। এই চারটি স্ক্রিনিং গেট হল বর্ণিহাট, রাতাছড়া, বাজেংডোবা এবং টিক্রিকিল্লা। মেঘালয় সরকারের মুখ্য সচিব মাল্লাম পল্লি শ্রীনিবাস রাও এর এই নির্দেশে সেখানকার প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
মেঘালয় সরকারের এই নির্দেশে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ। অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সানোয়াল এবং মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমাকে লিখিত ভাবে অযথা হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানান বিধায়ক কমলাক্ষ। সেই সঙ্গে মেঘালয় সরকারের সঙ্গে অসম সরকারকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসে এই সমস্যার সমাধান করার দাবি জানান তিনি। বিধায়ক কমলাক্ষ সংবাদ মাধ্যমের সামনে এ প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, মেঘালয় সরকার সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে প্রবাসীদের সঙ্গে হয়রানি করছে। অতীতেও বিভিন্ন বাহানায় মেঘালয়ে বাঙালির উপর অমানবিক নির্যাতনের ইতিহাস রয়েছে। মেঘালয় সরকারের ব্যবহার দেখলে মনে হয় এ যেন দেশের ভিতরেই অন্য আরেক দেশ।
বরাক উপত্যকার তিন জেলার অনেকে লোক কর্মসূত্রে মেঘালয়ে রয়েছেন। কিন্তু নিজের দেশে থেকেও আজ মেঘালয় সরকারের এই উদ্ভট নির্দেশে এরাও দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন। ট্রানজিটের নামে বরাকের যাত্রীদের নানাভাবে হয়রানি করা চলছে মেঘালয়ে। মেঘালয়ে বিদ্যমান বরাক সহ দেশের অন্যান্য রাজ্যের নাগরিকদের সঙ্গেও অযথা হয়রানি বন্ধ করার জন্য মেঘালয় সরকারের কাছে জোরদার দাবি জানিয়েছেন বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ।



















