নিজস্ব প্রতিনিধি, কৈলাসহর, ২ মার্চ৷৷ অভাবের তাড়নায় হত দরিদ্র দিনমঞ্জুর এক মাসের নিজ পুত্র সন্তানকেপাঁচ হাজার টাকা এবং চারটি শাড়ির বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছে৷ ঘটনাটি সতেরো দিন পূর্বের কৈলাসহরের ধাতুছড়ায়৷
কৈলাসহরের গৌরনগর ব্লকের অধীন উনকোটি এডিসি ভিলেজের ধাতুছড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা স্বপন বল্মিকী দাশ৷ স্বপন পেশায় দিনমজুর৷ স্বপন জানায়, গত তেরো জানুয়ারি ধাতুছড়া নিজ বাড়িতে রাত সাড়ে তিনটায় চতুর্থ সন্তানের জন্ম হয়েছিল৷ হত দরিদ্র গরীব স্বপন শিশুটিকে লালন পালন এবং খাওয়াতে পারছিলো না৷ তাই স্বপন মন স্থির করে যে, শিশুটেকে বিক্রি করে দেবে৷
স্বপন এব্যাপারে পাশ্ববর্তী এলাকার কলাছড়া এলাকার নিজের দিদা রীনা উরাং-এর সঙ্গে আলাপ করে৷ দিদা রীনা উরাং এই বিষয়টি শোনে পাশের বাড়ির সেফারুন বিবির সঙ্গে আলাপ করে৷ সেফারুন বিবির মেয়ে অনুফা বেগমের বিয়ের আট বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও আজ অব্দি কোন সন্তান হয়নি৷ তাই সেফারুন বিবি এই কথা শোনার পর নিজের মেয়ে অনুফা কোম এবং মেয়ের জামাই সুয়েল আলমের সঙ্গে আলোচনা করে৷ এরপর সুয়েল আলম নগদ পাঁচ হাজার টাকা এবং চারটি শাড়ির বিনিময়ে স্বপনের কাছ থেকে পুত্র শিশুকে গত চৌদ্দ ফেব্রুয়ারি ক্রয় করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে৷ সুয়েল আলমের বাড়ি কৈলাসহরের গৌরনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়৷ সুয়েল পেশায় গাড়ি চালক৷
এই খবরটি ঘোল্ল দিন পর সোমবার কৈলাসহর চাইল্ড লাইন কর্মকর্তাদের নজরে আসার পর ত্রিপুরা রাজ্য চাইল্ড প্রোটেকশন কমিশনের উনকোটি জেলার সদস্যা বিলকিস জাহানকে সঙ্গে নিয়ে কৈলসহর থানার পুলিশের সহায়তা নিয়ে স্বপনের বাড়িতে যায়৷ স্বপন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের সামনে বলে-গত দেড় বছর ধরে রেগার কাজ পাচ্ছে না এবং বন দপ্তরেরও কোনও কাজ পাচ্ছে না, তাই অভাবের তাড়নায় শিশু সন্তানকে বিক্রি করেছে৷ স্বপন আরোও জানান যে, সে অতি গরীব হবার পরও আজ পর্যন্ত বিপিএল কার্ড পায়নি এবং সরকারীভাবে কোন ঘরও পায়নি৷ অনুফা বেগম নিজে স্বীকার করেছে যে, এই সন্তানটি নিজের নয়৷ মা সেফারুন বিবির মাধ্যমে শিশুটি আনা হয়েছে৷
চাইল্ড লাইনের কর্মকর্তা আবুল হোসেন শিশুটিকে উদ্ধার করে উনকোটি জেলা হাসপাতালে নিয়ে এসে মেডিক্যাল পরীক্ষা করিয়ে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের সামনে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন৷ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ত্রিপুরা রাজ্য চাইল্ড প্রেটেকশন কমিশনের উনকোটি জেলা কমিটির সদস্যা বিলকিস জাহান বলেন, আর্থিক অনটনের কারণেই স্বপন তাঁর নিজ পুত্র সন্তানকে বিক্রি করেছিল৷ শিশু সন্তান বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে৷ চাইল্ড লাইন শিশুটিকে উদ্ধার করে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিশনের কাছে হস্তান্তর করে৷



















