নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১০ নভেম্বর৷৷ শিক্ষকতার চাকুরী পাওয়ার জন্য জাল সার্টিফিকেট জমা দেওয়ায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা
করেছে শিক্ষা দপ্তর৷ রাজ্য সরকারের আবেদনে সাড়া দিয়ে ৬ জন জাল সার্টিফিকেটধারী স্বেচ্ছায় নাম প্রত্যাহার করায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি৷
প্রসঙ্গত, গত ৮ অক্টোবর ৮৮৫ জন স্নাতক শিক্ষক এবং ১২৫ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষকের পোস্টিং দিয়েছে শিক্ষা দপ্তর৷ এই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় টিআরবিটি’র উদ্যোগে বাছাই পরীক্ষায় জাল সার্টিফিকেটের অভিযোগ উঠেছিল৷ কিন্তু, তার আগেই তাদের মধ্যে অফার বিলি করা হয়ে গিয়েছিল৷ শিক্ষা দপ্তরে জাল সার্টিফিকেট সংক্রান্ত ১৩২টি অভিযোগ জমা পড়েছিল৷ তাতে, শিক্ষা দপ্তর একটি কমিটি গঠন করে সমস্ত কাগজপত্র পুণরায় পরীক্ষা নিরিক্ষা করেছিল৷ এই প্রক্রিয়া চলাকালীন অফার প্রাপকদের পোস্টিং দেওয়া হয়নি৷
প্রাথমিকভাবে ওই অভিযোগগুলির মধ্যে ৪১ জনের কাগজপত্র সঠিক প্রমাণিত হয়েছিল৷ কিন্তু, বাকি ৬২ জনের কাগজপত্র জাল কিনা তা জানতে কিছুটা সময় নিয়েছিল কমিটি৷ সমস্ত কিছু পুঙ্খনাপুঙ্খ খতিয়ে দেখে কমিটি শিক্ষা দপ্তরকে ২১ জনের সার্টিফিকেট জাল বলে রিপোর্ট দিয়েছিল৷ তাদের মধ্যে জাল সার্টিফিকেটধারী ৬ জন রাজ্য সরকারের আবেদন সাড়া দিয়ে নাম প্রত্যাহার করেছিলেন৷ এবিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বাকি ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে৷
এরই মধ্যে শিক্ষক পদে অফার প্রাপকদের পোস্টিং দেওয়া হয়৷ ৮৮৫ জন স্নাতক শিক্ষক এবং ১২৫ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষকদের পোস্টিং দেওয়া হয় গত ৮ অক্টোবর৷ জানা গেছে, উত্তর জেলায় ১৪০ জন, গোমতি জেলায় ১৫৫ জন, ঊনকোটি জেলায় ১৩৫ জন, খোয়াই জেলায় ৩৫ জন, দক্ষিণ জেলায় ১৫৫ জন, সিপাহীজলা জেলায় ৬০ এবং পশ্চিম জেলায় ৫০ জন স্নাতক শিক্ষককে পোস্টিং দেওয়া হয়৷ তেমনি, উত্তর জেলায় ২৪ জন, গোমতি জেলায় ২৪ জন, ঊনকোটি জেলায় ২৪ জন, দক্ষিণ জেলায় ২৪ জন এবং পশ্চিম জেলায় ৫ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষককে পোস্টিং দেওয়া হয়৷
সূত্রের খবর, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৬ জন জাল সার্টিফিকেটধারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেছে শিক্ষা দপ্তর৷ কারণ, তাঁরা রাজ্য সরকারের আহ্বানে সাড়া দেননি৷ সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, চাকুরী পাওয়ার ক্ষেত্রে অসদুপায় বরদাস্ত করা হবে না৷ বাঁকা পথে কেউ হাটলেই তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ তিনি আরো জানিয়েছেন, পূর্বতন সরকারের আমলে শিক্ষকতার চাকুরীর জন্য যাঁরা জাল সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ সূত্রের খবর, এখন পর্যন্ত টিআরবিটি’র উদ্যোগে নেওয়া পরীক্ষার মাধ্যমে যারা শিক্ষকতার চাকুরী পেয়েছেন তাদেরও সার্টিফিকেট পুণরায় খতিয়ে দেখবে শিক্ষা দপ্তর৷


















