নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১০ নভেম্বর ৷৷ সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল যেভাবে দেশকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন সেভাবে আমাদেরও মননের মধ্যে দিয়ে
সমগ্র দেশকে একসূত্রে বেঁধে রাখতে হবে – আজ রবীন্দ্র শতবার্ষিকীভবনে এন আই টি আগরতলার ১১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল অধ্যাপক কাপ্তান সিং সোলাঙ্কি একথা বলেন৷ তিনি বলেন, ছাত্র-ছাত্রীরাই হচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ৷ গুণগত শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে এজন্য সঠিক ভাবেই গুণগত শিক্ষার প্রসারের উপর বিশেষভাবে গুরত্ব দেয়া হয়েছে৷ তিনি বলেন, শুধুমাত্র স্মার্ট সিটি করলেই চলবে না এক সঙ্গে স্মার্ট ক্লাস, স্মার্ট স্টুডেন্ট তৈরি করার উপরও গুগদ্দরুত্ব দিতে হবে৷ তা হলেই দেশ এগিয়ে যাবে৷ তিনি বলেন, প্রতিবছরই কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ থেকে প্রচুর ছাত্র-ছাত্রী পাশ করে বের হয়ে সমাজের নানা অংশে নিজেদের যুক্ত করেছে৷
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভ াষণে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, কোন দেশ বা রাজ্যের উন্নয়নে স বচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে শিক্ষা৷ তাই আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন ভারত বানানোর কাজ করছেন৷ তিনি বলেন, আমরা ত্রিপুরাকে মডেল রাজ্য বানানোর যে সংকল্প নিয়েছি তা বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে আগরতলার এনআইটি৷ এখান থেকে প্রতিবছর যে সকল প্রতিভাবান ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেছেন তাদের মাধ্যমে আমাদের এই স্বপ্ণ পূরণ হবে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এন্টারপ্রেনারশিপকে উন্নতি করতে চাই৷ কারণ এর মাধ্যমেই প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে৷ এই কাজেও এগিয়ে আসার জন্য এন আইটি’র ডিগ্রিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের প্রতি আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নতুন ভারত গড়ার ক্ষেত্রে দেশের যুবকদেরই সবচেয়ে প্রাধান্য দিয়েছে৷ তাই নতুন ভারত গড়ার জন্য এনআইটি থেকে ডিগ্রি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্বে বিভিন্ন দেশ আমাদের দেশ আমাদের দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করত৷ কিন্তু ২০১৪ সালে দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাসনভার নেওয়ার পর দেখিয়েছেন যে ভারত প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সারা বি শ্বকে রাস্তা দেখাতে পারে৷ মুখ্যমন্ত্রী ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ব লেন, আজ থেকে আপনাদের নতুন জীবন শুরু হবে৷ এরজন্য আপনাদের শুভকামান জানাই৷ পাশাপাশি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আপনাদের এগিয়ে আসতে হবে৷ রাজ্য সরকার আগামী ৩ বছরের মধ্যে ত্রিপুরাকে মডেল রাজ্য বানানোর যে সংকল্প নিয়েছ সে বিষয়ে এনআইটি’র ছাত্র-ছাত্রীদের যদি কোন পরিকল্পনা থাকে তা তার কাছে পেশ ক রার আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার আপনাদের সর্বতোভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে৷ তিনি বেেলন, আমাদের দেশে মোবাইল সহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্রয় করতে প্রচুর টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে৷ তাই ঐসব যন্ত্রাংশ যাতেআমাদের দেশেই তৈরি করা যায় এরজন্য মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যোগী হয়ে এগিয়ে আসতে হবে৷ তবেই প্রধানমন্ত্রীর নতুন ভারত গড়ার স্বপ্ণ সফল হবে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এনআইটি থেকে ডিগ্রি নিয়ে যে কোনো ক্ষেত্রেই কাজ করুক না কেন তাদের সর্বাগ্রে নিজের দেশ ও সংসৃকতিকে বালোভাবে জানতে হবে৷ পাশাপশি নিজের দেশ ও রাজ্য এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শপথও গ্রহণ করতে হবে৷ তিনি বলেন, রাজ্য সরকার ত্রিপুরাতে আইটি হাব বানানোর পরিকল্পনা নিয়েছে৷ কারণ এখানে হাই স্পীড ইন্টারনেটসহ আইটি হাব গড়ে তোলার পরিবেশ রয়েছে৷ ত্রিপুরার থেকে বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করে বহির্রাজ্যের বিভিন্ন আইটি হাবে রাজ্যের যে সমস্ত ছেলেমেয়েরা সুনামের সঙ্গে কাজ করছে তাদের রাজ্যে ফিরিয়ে এনে আইটি হাব গড়ার উদ্যোেগ নেওয়া হবে৷ রাজ্য সরকার সেই দিশাতেই কাজ করছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাব্রুমে নির্মীয়মান ফেনি ব্রীজের মাধ্যমে স্থলপথে এবং চিটাগাং বন্দরের মাধ্যমে জলপথে রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ত্রিপুরাতে প্রচুর রোজগারের সুযোগ সৃষ্টি হবে৷ সেই লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করছে৷ অনুষ্ঠানে এনআইটি আগরতলার অধিকর্তা অধ্যাপক হরিশ কুমার শর্মা বলেন, এনআইটি বর্ষব্যাপী বিভিন্ন ধরণের অধ্যায়ণ বিষয়ক ও গবেণামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে থাকে৷ এছাড়াও বিভিন্ন ধরণের সচেতনতামূলক ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করে থাকে৷ এরমধ্যে যোগা দিবস, স্বচ্ছ ভারত অভিযান, রাষ্ট্রীয় একতা দিবস ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য৷ এনআইটি আগরতলায় এই বছর কারিগরী শিক্ষা সংক্রান্ত ‘আয়াম’ উৎসব পালন করা হয়েছে যা উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি বৃহত্তম কারিগরী উৎসব৷ এছাড়াও চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে এনআইটি ক্যাম্পাসে ত্রিপল আইটি’র অধ্যায়ন বিষয়ক ও অন্যান্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও এনআইটি আগরতলার পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে৷
আজকের এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সর্বমোট ৯৭৮ জন ছাত্র-ছাত্রীকে শংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে৷ এছাড়াও সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ২৬ জন ছাত্র-ছাত্রীকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়েছে৷ এদের মধ্যে স্নাতক স্তরের বিভিন্ন শাখার প্রথম স্থানাধিকারী ৮ জন, ডুয়েল ডিগ্রিস্তরে (বিএসএমএস এবং বিটিএমটি) বিভিন্ন শাখার প্রথম স্থানাধিকারী ৩ জন এবং স্নাতকোত্তর স্তরে বি ভিন্ন শাখার প্রথম স্থানাধিকারী ১১ জনকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়েছে৷ এছাড়া স্নাতকস্তর, ডুয়েল গ্রিগ্রীস্তর এবং স্নাতকোত্তরস্তর হতে সামগ্রীকভাবে প্রতিষ্ঠানের প্রথমস্থানাধিকারী ৩ জনকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়েছে৷ ছাত্র-ছাত্রীদের পদক ও শংসাপত্রগুলি তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ৷


















