নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৫ জুন৷৷ রাজ্যের নেশা কারবারি ও মাফিয়াদের আবার কড়া হঁুশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ জানিয়ে
দিলেন,এ ব্যাপারে রাজ্য সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছে৷ বিধানসভা নির্বাচনের পর প্রদেশ বিজেপির প্রত্যেকটি শাখা সংগঠনের পর্যায়ক্রমিক রাজ্য সম্মেলন চলছে৷ মঙ্গলবার বিজেপি মহিলা মোর্চার রাজ্য সম্মেলন শুরু হয়েছে৷ এই সম্মেলনে সারা রাজ্য থেকে বিভিন্ন মন্ডলের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন৷
সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তথা মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব৷ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার যথেষ্ট প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে থেকে কাজ শুরু করেছে৷ রাজ্যের বিগত ২৫ বছরে যে ধরনের সংকৃতি তৈরি হ য়েচছে তা পালটে এক নতুন ত্রিপুরা গঠনের চেষ্টা চলচে৷ জনগণের ইচ্ছা এবং আকাঙ্খাকে সামনে রেখেই সরকার কাজ করে চলছে৷ ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ভিজন ডকুমেন্ট যে সব বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছিল তার সব পূরণ করা হবে৷ তিনি বলেন, রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েচে, ত্রিপুরাকেনেশামুক্ত রাজ্য হিসাবে গড়ে তোলা হবে৷ দীর্ঘ বামশাসনে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় অবৈধ গাজা চাষ হচ্ছিল৷ প্রকাশ্যে গাজার ব্যবসা চলত৷ তদানীন্তন প্রশাসন কখনো এর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়নি৷ শুধু গাজাই নয়, অন্যান্য নেশা সামগ্রীও সারা রাজ্যে ছেয়ে ফেলেছে৷ আর এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মহিলারা৷ মহিলারা এই নেশার কারণে অসময়ে স্বামীহারা, নয়ত সন্তানহারা হয়েছেন৷ পারিবারিক অশান্তির স্বীকার হয়েছেন তারা৷ শুধু তাই নয়, রাজ্যে নেশার ট্যাবলেট সর্বত্র ছেয়ে গেছে৷ নেশাসক্তদের কারণে মহিলাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হ য়েছে৷
তিনি বলেন, রাজ্যকে নেশামুক্ত করা হবে৷ কোনোভাবেই অবৈধ নেশা সামগ্রীর চোরাকরাবার আর বরদাস্ত করা হবে না৷ সরকার এ বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে৷ নেশাকারবারী, মফিয়া, জমির দালাল, মধ্যস্তত্ববোঘী, এসবের আর কোনো চিহ্ণ থাকবে না৷ রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে৷ নেশাকারবারী আর মাফিয়াদের এখন স্থান হবে বিশালগড়ের সংশোধনাগারে৷ বিপ্লবকুমার দেব বলেন, সরকারের কর্মসূচীগুলিকে সফল রূপ দেওয়ার জন্য মহিলাদের বিশেষ ভূমিকা নিতে হবে৷ মহিলা মোর্চার কর্মীদের প্রতিপরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সমস্যাবলি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হয়ে যেসব সমাধানের চেষ্টা করতে হবে৷ রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি সম্পর্কে তাদের বুঝাতে হবে৷ একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের কাছে জনগণের ইচ্ছা এবং তাদের সমস্যাবলির বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন৷


















