নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৪ মে৷৷ বেনোজল ঢুকছে৷ তাই সময় থাকতেই দলীয় কর্মী সমর্থকদের সতর্ক করলেন বিজেপি প্রাক্তন রাজ্য প্রভারি তথা

দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সুনীল দেওধর৷ তাঁর কথায়, এখন অনেকেই দলের প্রশংসায় মুখর৷ কিন্তু, এমনও হতে পারে প্রশংসার ছলে দলের শিকর কেঁটে ফেলছেন৷ তাঁর সাফ কথা, ওঁদের থেকে সর্তক থাকুন এবং আদর্শের শিক্ষা দিন৷ সাথে যোগ করেন, নিজের আচরণ দিয়ে বোঝাবেন সমাজের জন্য কিছু করতে চাইছেন, ভাষণ দিয়ে নয়৷
শুক্রবার এনএসআরসিসি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত যুব সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুনীল দেওধর দলের সকল অংশের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের দলীয় নীতি অনুসরণের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন৷ তাঁর কথায়, সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে৷ দীর্ঘ ২৫ বছরের বাম জমানার অবসানের পর রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে৷ তাই সিপিএম থেকে যারা আসছেন তাদেরকেও সাথে রাখতে হবে৷ সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেই দায়িত্ব ঝেড়ে ফেললে চলবে না৷ তা মনে করিয়ে দিয়ে সুনীল দেওধরের বক্তব্য, যদি মুখ্যমন্ত্রী ১৮ ঘন্টা এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা ১৫ ঘন্টা ধরে কাজ করতে পারেন, তাহলে সমস্ত নেতা কর্মীদেরও দলকে আরো শক্তিশালী করতে সময় দিতে হবে৷ তিনি যুব কর্মীদের নিজেদের বিবেকের কাছে প্রশ্ণ করতে বলেন, কেন রাজনীতিতে এসেছেন তা ভেবে দেখুন৷ অর্থ উপার্জনের জন্যই দলে যোগ দেওয়া, এমন চিন্তাধারা বাদ দিয়ে চলুন৷ তাঁর আবেদন, রাজনৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে বাস্তবক্ষেত্রে সমাজের জন্য কাজ করুন৷
সুনীল দেওধরের কথায়, বিরোধীদল হিসেবে কাজ করা খুবই সহজ৷ যখন যেমন খুশি আন্দোলন করা যায়৷ শুধু তাই নয়, যেমন খুশি ভাষণও দেওয়া যায়৷ কিন্তু, শাসকদলের অঙ্গ হিসেবে সেই কাজ ততটা সহজ নয় বলে দাবি দেওধরের৷ তাঁর মতে, আমাদের কাজ ভাষণ দেওয়া নয়৷ তাই নিজের আচরণ দিয়ে বোঝাবেন সমাজের জন্য কিছু করতে চাইছেন, তা ভাষণ দিয়ে নয়৷
রাজ্যের বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও যুব কর্মী এবং দলের সকল অংশের নেতাকর্মীদের এদিন সতর্ক করেছেন সুনীল দেওধর৷ তিনি বিদ্রুপ করে বলেন, নির্বাচনের আগে কংগ্রেস, সিপিএম, আইএনপিটি এবং আইপিএফটি থেকে মানুষ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন৷ কিন্তু ক্ষমতা দখলের পর বৃহৎ আকারে সিপিএম থেকে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন৷ অনেকেই নতুন সরকারের প্রশংসায় মুখর হচ্ছেন৷ দেওধরের কথায়, প্রশংসক নিঃসন্দেহে ভালো মানুষ হতে পারেন৷ কিন্তু, এমন হতে পারে প্রশংসার ছলে দলের শিকর কেঁটে ফেলছেন৷ তাতে এ রাজ্যে দল দুর্বল হয়ে পড়বে৷ তাঁর পরামর্শ, এ রাজ্যে দলের ভাবমূর্তি কোনও ভাবেই কালিমালিপ্ত হতে দেওয়া যাবে না৷ সেদিকে সকলকেই নজর রাখতে হবে৷ দলকে আরো মজবুত করার পাশাপাশি দলের গরিমা আরও বাড়াতে হবে৷ তিনি আরও পরামর্শ দিয়ে বলেন, সকলকে জনতার সেবক হতে হবে৷ কারণ, আগামী ৫ বছর বিজেপিকে এ রাজ্যে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে৷ তিনি দলের সকলকে মনে করিয়ে দেন, জনতা আপনাদের ক্ষমতা স্থায়ী ভাবে দেননি৷
সরকার ক্ষমতায় আসার পর জনগণের প্রতি বিজেপি কর্মীদের দায়বদ্ধতা বেড়ে গেছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিজেপির যুবমোর্চার সর্বভারতীয় সভানেত্রী পুনম মহাজন৷
সম্মেলনে ভাষণ রাখতে গিয়ে পুনম মহাজন বলেন, ত্রিপুরায় বিজেপি পরিচালিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে৷ সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্কা রয়েছে৷ ফলে দলের প্রত্যেক কার্যকর্তাকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে৷ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কিংবা মন্ত্রীদেরই কেবল দায়িত্ব রয়েছে এমনটা নয়৷ দায়িত্ব পালন করতে হবে প্রত্যেক কার্যকর্তাকে৷
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার বেশ কিছু প্রকল্প নিয়েছে৷ জনকল্যাণমুখী প্রকল্প সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে বোঝাতে হবে৷ কীভাবে এসবের সুবিধা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় তার জন্য সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিদেশে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন৷ সমগ্র বিশ্বে এখন ভারতের জয় জয়কার৷ কিন্তু দেশ গড়ার কাজে প্রত্যেক কর্মীর অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে৷


















