সায়ন্তক চৌধুরী
তিন মার্চ৷ ছিল ১৮-এর বিধানসভার নির্বাচনের পর ভোট গণনার দিন৷ দুপুর বারটার মধ্যে ভোটের চিত্র অনেকটা নিশ্চিত হবার মত৷ বারটার পর দেখা গেল বিজেপিতে গণ জোয়ার৷ এমন জোয়ারকে বলা যেতে পারে বেনোজল৷ সেই তিন মার্চের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিজেপিতে বেশ কিছু নব্য বিজেপির উদয় হল৷ নব্যদের দাপটে পুরানো বিজেপি সমর্থকরা ঘরে বসে রইলেন৷ বলা যেতে পারে — বর্তমানে বিজেপিতে যাবার যেন প্রতিযোগিতা চলছে৷ এক সময়ে এই নব্য বিজেপিরা ছিল সিপিএমের কট্টর সমর্থক৷ এখন সিপিএমের মরা গাঙে আর বান আসবে না বুঝে তারা
বিজেপিতে ভিড়ছে৷ তবে ভিড়ছে বললে ভুল বলা হবে জামা পাল্টিয়ে রীতিমত কট্টর বিজেপি হয়ে গেছে৷ তাদের দাপটে বিজেপির প্রবীণরা যেন খাবি খাচ্ছে৷ ইতিমধ্যে বিজেপির অন্দরেও নব্য বিজেপিদের নিয়ে চর্চা চলছে৷ কিন্তু পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এমন যে, বিড়ালের গলায় ঘন্টা কে বাঁধবে? নব্যরা দলবল নিয়ে বিজেপিতে পুনর্বাসিত হয়েছে৷ তারাই যেন বর্তমানে বিজেপির মধ্যমণি৷ রাতারাতি বিভিন্ন ক্লাবের সদস্যরা ঠাঁই নিল বিজেপিতে৷ হগব নেতাদের বর্তমানে আর দেখা পাওয়া যায় না৷ সিপিএম অফিস খোলার যেন কেউ নেই৷ আর কেউ সাহস করে খুলতে গেলে নব্য বিজেপিরা এসে তাদেরকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দিচ্ছে৷ কিংবা তাদেরকে ধোলাইয়ের ব্যবস্থা করছে৷ এসব কাজে নব্য বিজেপিরা মরিয়া তাদের লক্ষ্য একটাই৷ তা হল — যেনতেন ভাবে শীর্ষ নেতাদের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করা৷ এমন নব্য বিজেপির মধ্যে কে নাই৷’ রয়েছে — ঠিকাদার হগব নেতা, সিট্যুর নেতা, মাফিয়াসহ মিডিয়া জগতের এক শ্রেণীর সাংবাদিক৷ তাদের লক্ষ্য একটাই৷ তা হল, বিজেপি ছত্রছায়ায় থেকে আখের গোছানো৷ আবার এক শ্রেণীর নব্য বিজেপিরা চাঁদার সংসৃকতিতে নেমে পড়েছে৷ বিলোনীয়ার নব্য বিজেপিরা অক্ষয় তৃতীয়াকে কেন্দ্র করে চাঁদা তুলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে৷ বিজেপিতে কিন্তু চাঁদা সংসৃকতি নেই বলে রাজ্যবাসী জানে৷ কিন্তু সেই জানা বর্তমানে প্রশ্ণের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে৷ আবার কোনও কোনও স্থানে মজদুর সঙ্ঘের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে৷ ফলে মজদুর সংঘের সততাও প্রশ্ণের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে৷ মোটের উপর মত দিন যাচ্ছে ততই যেন বিজেপিতে পর গাছা ভর করছে৷ এসব পরগাছা কখনো সমাজের ভালো কাজ করে না৷ বিজেপি নেতৃত্বরা যেন পরগাছাদের নিয়ে উদাসীন বলে মনে হচ্ছে৷ পুরানো কর্মীরা যেন অনেকটা কোণঠাসা৷ নব্যদেরই জয় জয়কার৷ এমন পরিস্থিতি বিজেপির জন্য কোন অবস্থায় সুখকর হতে পারে না৷ কেননা, রাজ্যে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে৷ রাজ্যবাসী অনেক আশা-ভরসা করে দীর্ঘ বাম শাসনের অবসান ঘটিয়েছে৷ তাইতো বিজেপি সরকারের প্রতি রাজ্যবাসীর প্রত্যাশা অনেক৷ কিন্তু বিজেপিতেও যদি বাম কালচার ঢুকে যায় তাহলে পরিবর্তনের অর্থ অনর্থের সৃষ্টি করবে৷ রাজ্যবাসী হতাশ হয়ে পড়বে৷ সুতরাং সময় থাকতে বিজেপি নেতৃত্বকে সতর্ক হতে হবে৷ তা না হলে নব্য বিজেপিদের দাপটে আবার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠবে৷ ইতিমধ্যে এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে বই কি৷ তাই রাজ্যবাসীর মনে বিজেপির যে ভাবমূর্তি রয়েছে তা অক্ষুন্ন রাখতে হলে কোনভাবে নব্যদের সাথে অপোষ করা চলবে না৷ বিজেপি নেতৃত্বদের মনে রাখতে হবে দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভাল৷

দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভাল
Releated Posts
শস্য সাইলো প্রকল্পে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ খারিজ করল এফসিআই
নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস): শস্য সংরক্ষণের আধুনিক সাইলো প্রকল্পের বরাত প্রদানের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব ও একচেটিয়া ব্যবসাকে উৎসাহ দেওয়ার…
অসম বিধানসভায় ইউসিসি পাস, ‘প্রত্যেক নাগরিকের জন্য অভিন্ন আইন কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’: অমিত শাহ
নয়াদিল্লি, ২৭ মে (আইএএনএস): অসম বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বিল পাস হওয়ায় রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানালেন কেন্দ্রীয়…
কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানি হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূতের
কাবুল, ২২ মে (আইএএনএস): আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট কাবুলের ওমিদ পুনর্বাসন হাসপাতালে পাকিস্তানের…
ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচির সূচনা, ধলাই জেলার ৩৫ জনের অভিযোগ শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী
আগরতলা, ২০ মে : রাজ্যের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’…


















