নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ মার্চ৷৷ রাত পোহালেই বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা৷ দুপুরের মধ্যেই ফলাফল চিত্র স্পষ্ট হয়ে যাবে৷ ভোট গণনা ও ফলাফল পরবর্তী শান্তি সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মীও মোতায়েন করা হয়েছে৷ রাজ্যের নানা স্থানে নির্বাচনোত্তর সন্ত্রাসের আগাম আশঙ্কা উড়িয়ে দিতে পারছে না৷ ভোট গণনার আগের দিনই তার আঁচ মিলেছে৷ নির্বাচনোত্তর সন্ত্রাসের আশঙ্কায় সন্ধ্যার আগেই রাজধানী আগরতলা শহর সহ রাজ্যের সর্বত্রই বাজার হাট, রাস্তাঘাট প্রায় জনমানব শূন্য হয়ে যায়৷ সব্জি, মাছ সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীর মজুত প্রায় শূন্য করে ফেলেছেন৷ আগামী দুদিন তারা বাজার হাট, দোকান পাট খুলবেন না বলে গুঞ্জন তুলেছেন৷ তাদের আশঙ্কা যেকোন সময় হিংসাত্মক ঘটনা সংগঠিত হতে পারে৷ অহেতুক ঝামেলায় জড়াতে চান না এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা৷ মাঝারী ও বড় ব্যবসায়ীরাও ফলাফল ঘোষণার দিন দোকানপাট অঘোষিত ভাবে বন্ধ রেখে ঝামেলা এড়াতে চাইছেন৷ অটো ওয়ালা থেকে শুরু করে অন্যান্য যানবাহনের চালকরাও যানবাহন নিয়ে বের হওয়ার ঝঁুকি নিচ্ছেন না৷ সরকারী কর্মচারীদের একাংশ সুকল অফিসে না গিয়ে একটানা তিনদিন ছুটির আমেজে কাটানোর কৌশল নিয়েছেন৷ অর্থাৎ শুক্রবার হোলি উপলক্ষে সরকারী ছুটি, শনিবার সিএল এবং রবিবার পুনরায় ছুটি কাটানোর কৌশল নিয়েছেন৷ যারা সুকল অফিস আদালতে যাবেন তারাও দুশ্চিন্তায় কাটাচ্ছেন৷ সর্বত্র যেন অজানা এক আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে৷ কেন্দ্রীয় বাহিনী, টিএসআর ও পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ কর্মী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সত্বেও নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন আপামর রাজ্যবাস৷ কখন কি ঘটে যায় তা বলা মুশকিল৷ সে কারণেই সব অংশের মানুষ সব ধরনের ঝামেলা এড়িয়ে চলারক চিন্তা ভাবনা করছেন৷ বিগত নির্বাচনগুলির চেয়ে এবারের নির্বাচন অনেকটাই জনগণের কাছে ভিন্নতর৷ এবার বিরোধী পক্ষ যথেষ্ট শক্তিশালী৷ শাসক গোষ্ঠীর কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেবার জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছেন৷ প্রধানমন্ত্রী সহ ঝাঁকে ঝাঁকে কেন্দ্রীয় নেতারা ত্রিপুরায় নির্বাচনী প্রচারে এসেছেন৷ তারা রাজ্যবাসীকে গালভরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন৷ প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়িতে আকৃষ্ট হয়েছেন অনেকেই৷ সেটাই শাসক গোষ্ঠীর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়৷ বিরোধীরা জোরগলায় সওয়াল করে চলেছে তারা ক্ষমতায় আসছেই৷ প্রত্যাবর্তন না পরিবর্তন তা নিয়ে ধোঁয়াশায় পড়েছেন রাজ্যবাসী৷ সেই ধোঁয়াশা কাটিয়ে স্থির সিদ্ধান্ত জানা যাবে ৩রা মার্চ দুপুরেই৷ লাল কিংবা গেরুয়া যারাই ক্ষমতার পাদপ্রদীপে আসীন হোন না কেন, রাজ্যে শান্তি সম্প্রীতির ধারা অব্যাহত থাকুক সেটাই শান্তিকামী রাজ্যবাসীর প্রত্যাশা৷
2018-03-03

