নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৫ ডিসেম্বর৷৷ আগরতলা প্রধান ডাক ঘর থেকে কয়েক ফার্লং দূরত্বে একটি রেজেষ্ট্রি চিঠি বিলি করতে সময় লেগেছে পাক্কা তেইশ দিন৷
ভারতীয় ডাক বিভাগের কত বেশী শোচনীয় অবস্থা এই ঘটনা তার বড় নিদর্শন৷ আগরতলা প্রধান ডাক ঘরে ১ ডিসেম্বর লক্ষ্মীনারায়ণ বাড়ী রোড, নীলকান্ত মন্দির লেইন জাগরণ অফিসের নামে রেজেস্ট্রি চিঠি পোস্ট করা হয়৷ সেই চিঠি জাগরণ অফিসে বিলি করা হয় ২৩ ডিসেম্বর৷ এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে কী ভয়ানক পরিস্থিতি ডাক বিভাগের৷ এব্যাপারে আগরতলা প্রধান ডাক ঘরের পোস্টমাস্টার এবং পোস্টাল অধিকর্তাকে জানানো হয়েছে৷
ডাক বিভাগের এত বিশাল পরিকাঠামো, এত এত মোটা মাইনের কর্মচারী অফিসার সত্বেও ভোক্তারা পরিষেবা পাচ্ছেন না৷ আর এজন্যই বেসরকারী ক্যুরিয়ার সংস্থাগুলি আজ ফুলে ফেঁপে উঠেছে৷ মানুষও তাদের উপরই বেশী নির্ভর হয়ে পড়েছেন৷
১৮৫৪ সালের ১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয় ভারতীয় ডাক বিভাগের৷ ব্রিটিশ আমলে এর পত্তন হলেও, দেশ স্বাধীন হওয়ায় ভারত সরকার ‘ডাক সেবা জন সেবা’ এই নীতি স্থির করে ডাক পরিষেবার৷ স্বাধীনতার সত্তর বছরে ডাক বিভাগের ব্যপ্তি অনেক বেড়েছে৷ বর্তমানে সারা দেশে ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৯১০টি পোস্ট অফিস রয়েছে৷ ৪ লক্ষ ৪৮ হাজার ৮৪০ জন কর্মী ডাক পরিষেবায় শ্রম দেন৷ যুগের বিবর্তনের সাথে আধুনিকতার ছোঁয়াও লেগেছে৷ কিন্তু, বিসমিল্লায় গলদ৷ তাই মানুষের এখন বেসরকারী ডাক সংস্থার প্রতি অগাধ ভরসা৷ ফলে, ইদানিংকালে সারা দেশেই ফুলেফেঁপে উঠেছে বহু বেসরকারী ডাক পরিষেবা সংস্থা৷
তবু অনেকেই এখনো ভারতীয় ডাক পরিষেবা নিতে চান৷ কিন্তু, পরিষেবার মানের গঙ্গাপ্রাপ্তির ফলে, ভারতীয় ডাক ব্যবস্থার প্রতি অসন্তুষ্টির মাত্রাও দিনে দিনে বেড়ে চলেছে৷
ত্রিপুরায় মোট ৭১০টি পোস্ট অফিস আছে৷ ডাক বিভাগের দাবি, গড়ে ১৪৭৮ কিলোমিটার এলাকায় একটি পোস্ট অফিস রয়েছে, তাতে ৫৪৮২ জনকে পরিষেবা দেওয়া সম্ভব৷ কিন্তু, বাস্তবে তা সত্যিই মিলছে? পরিসংখ্যান ঘাটলে তা ভূল বলেই প্রমাণিত হচ্ছে৷
আসাম বাদে পূর্বোত্তরের বাকি রাজ্যেগুলি মিলে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২১৮৯৪টি অভিযোগ ডাক বিভাগের কাছে জমা পড়েছে৷ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে অমীমাংসিত অভিযোগ ছিল ৩৭৫৭টি৷ ফলে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট অভিযোগের পরিমান দাঁড়ায় ২৫৬৫১টি৷ আশ্চর্য্যের বিষয়, বছর শেষে ২০৪৯টি অভিযোগের মীমাংসা করতে পারেনি ডাক বিভাগ৷
এদিকে, সারা দেশে ঐ একই সময়ে অভিযোগের পরিমান ছিল ১৮ লক্ষ ৬৩ হাজার ৩০৮টি৷ তার মধ্যে এখনো ৮৬ হাজার ৩২০টি অভিযোগের মীমাংসা হয়নি৷
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সহ খোলনলচে অনেক পাল্টেছে ভারতীয় ডাক বিভাগের৷ কিন্তু, সময়ের মধ্যে ডাক পৌছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয় ডাক বিভাগের ঢিলেমি শতবর্ষ প্রাচীন এই সংস্থাকে কলংকিত করছে৷ তাতে নীরিহ মানুষরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ে ডাক বিভাগকে বাপান্ত করছেন৷ যদি এইসব অভিযোগের সুরাহা না হয়, তাহলে একসময় এই বিভাগ মানুষের ক্ষোভের আগুনে পুড়বে৷

ডাক বিভাগের বিরুদ্ধে ১৮ লক্ষেরও বেশী অভিযোগ, আগরতলা প্রধান ডাকঘরে রেজেষ্ট্রি করা চিঠি শহরে জাগরণ অফিসে পৌঁছাতে সময় লাগল ২৩ দিন
Releated Posts
অসম বিধানসভায় ইউসিসি পাস, ‘প্রত্যেক নাগরিকের জন্য অভিন্ন আইন কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’: অমিত শাহ
নয়াদিল্লি, ২৭ মে (আইএএনএস): অসম বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বিল পাস হওয়ায় রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানালেন কেন্দ্রীয়…
কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানি হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূতের
কাবুল, ২২ মে (আইএএনএস): আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট কাবুলের ওমিদ পুনর্বাসন হাসপাতালে পাকিস্তানের…
ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচির সূচনা, ধলাই জেলার ৩৫ জনের অভিযোগ শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী
আগরতলা, ২০ মে : রাজ্যের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’…
সুস্থ সমাজ গঠনে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান সুদীপ রায় বর্মনের
আগরতলা, ১৭ মে: দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সুস্থ সমাজ ও শক্তিশালী দেশ গঠনে কাজে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন…


















