কলকাতা, ৮ আগস্ট (হি.স) : শেষরক্ষা হল না সিপিএমের সাসপেন্ডেড সাংসদ ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের। তাঁকে দলের রাজ্য কমিটির সদস্য পদ থেকে

সরিয়ে দেওয়া হল। তবে তাঁকে সংশোধিত হওয়ার সুযোগ দিয়ে শাস্তির সুপারিশ পাঠানো হল কেন্দ্রীয় কমিটিতে। এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় কমিটি বলে জানা গিয়েছে।
মঙ্গলবার সিপিএমের দুদিনের রাজ্য কমিটির বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান দলের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন বিমান বসু। উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। ঋতব্রতের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ব্যক্তিগত জীবনে নীতিহীনতা, বিশৃঙ্খলা। অভিযোগ ছিল দলের গোপন খবর সংবাদ মাধ্যমে ফাঁস করা।এই অভিযোগ এসেছিল দলের ভেতর থেকেই। অভিযোগের ভিত্তিতে সাংসদকে তিন মাসের জন্য \”সাসপেন্ড \” করা হয়। এই সময় ঋতব্রত চিন সহ বিভিন্ন কমিউনিস্ট দেশ ঘুরে আসেন। কিন্তু মাওয়ের দেশে গিয়েও রাজ্য কমিটি থেকে ছিটকে যাওয়া এড়াতে পারলেন না ঋতব্রত। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য লোকসভার সাংসদ মহম্মদ সেলিমকে চেয়ারম্যান করে তদন্ত কমিশন গঠন করে দল। এই কমিশনের অন্য দুই সদস্য ছিলেন মৃদুল দে আর মদন ঘোষ। সূর্যকান্ত মিশ্র জানান, ঋতব্রত কমিশনকে তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের জবাব দিয়েছেন। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট হতে না পেরে কমিশন ঋতব্রতকে বারবার ডেকে পাঠিয়ে কথা বলে তদন্ত কমিশন। কথা বলে অভিযোগকারীদের সঙ্গেও। তার ভিত্তিতে রিপোর্ট তৈরি করে কমিশন। কমিশনের সুপারিশ প্রথমে রাজ্য সম্পাদকমন্ডলীতে পেশ করা হয়। সেখানে আলোচনার পর রিপোর্টটি এদিন রাজ্য কমিটির বৈঠকে পেশ করা হয়। বিস্তারিত আলোচনা হয় রিপোর্টটি নিয়ে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঋতব্রতের বিরুদ্ধে অভিযোগ কমিশনের কাছে ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। তবে তাঁর বয়স যেহেতু কম, সেই বিষয়টি মাথায় রেখে তাকে সংশোধনের সুযোগ দিতে চায় রাজ্য কমিটি। সূর্যবাবু বলেন, তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি হোক আমরা চাই না। সংশোধনের সুযোগ দিয়ে তার শাস্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তবে বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষ। রাজ্য কমিটির সুপারিশ কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারাই ঋতব্রতের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু এখনই তাঁর সাসপেনসন তুলে নেওয়া হচ্ছে না।
সূর্যবাবু আরও বলেন, আমাদের রাজ্যে সরকারের আক্রমণ তীব্রতর হয়েছে। মানুষের জীবন জীবিকার ওপর আক্রমণ বেড়েছে। ধর্ম নিরপেক্ষতার ওপর আক্রমণ হচ্ছে। রাজ্যের শাসকদলের ওপর মানুষের মেহবৃদ্ধি ঘটেছে। তাই শাসকদল পুলিশ দিয়ে গঠনতন্ত্রের ওপর আক্রমণ করছে। এর মাঝখান থেকেই বিজেপি মেরু করনের রাজনীতি করছে। তিনবছর ধরে যা বিজেপির রাজত্বে দেখেছি। ছ বছর ধরে তাই এ রাজ্যে প্রত্যক্ষ করছি।



















