নিজস্ব প্রতিনিধি, চড়িলাম/লংতরাইভ্যালী, ১১ এপ্রিল৷৷ বিশ্রামগঞ্জের পর জঙ্গী আতঙ্কে জবুথবু লংতরাইভ্যালী মহকুমার বিভিন্ন প্রত্যন্ত পাহাড়ী এলাকার জনপদ৷ বাংলাদেশের ওপার থেকে বার্তা এসেছে অত্যাধুনিক আগ্ণেয়াস্ত্র সমেত কুড়ি জনের একটি জঙ্গী দল অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে৷ ইতিমধ্যেই এপাড়ে জঙ্গী দলের হয়ে কাজ করে চলেছে এক আত্মসমর্পণকারী জঙ্গী৷ শুধু তাই নয় ছাওমনু সহ লংতরাইভ্যালী মহকুমার বিভিন্ন উপজাতি অধ্যুষিত জনপদে জঙ্গীদের চাঁদার নোটিশের বিষয়টিও প্রকাশ্যে এসেছে৷ অন্যদিকে, সিপাহীজলা জেলার বিশ্রামগঞ্জের অমরেন্দ্রনগরে এখনও আতঙ্কের পরিবেশ কায়েম রয়েছে৷ পুলিশ প্রশাসন অবশ্য পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে৷
সংবাদে প্রকাশ, এনএলএফটি জঙ্গীদের তৎপরতা ও ছয়জন রাবার বাগানের মালিককে চাঁদার নোটিশ দেওয়া ঘিরে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন৷ প্রশাসনের কর্তারা গোটা বিশ্রামগঞ্জ থানা এলাকায় জঙ্গীদের বিরুদ্ধে চিরুনী তল্লাসী শুরু করেছে৷ এদিকে জঙ্গীদলের নোটিশপ্রাপ্ত ছয় ব্যবসায়ীর বাড়িতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে৷ পুলিশ ও টিএসআর যৌথভাবে গোটা বিশ্রামগঞ্জের অমরেন্দ্রনগরে তল্লাসী চালিয়ে যাচ্ছে৷ মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত পুলিশ শুধু অন্ধকারেই হাতরাচ্ছে৷ সিপাহীজলা জেলার পুলিশ সুপার সুদীপ্ত দাস সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে৷ একই সঙ্গে অভিযান জারি রয়েছে৷ যে যুবকরা ঐ চাঁদার নোটিশগুলি বিলি করতে গ্রামে গিয়েছিল তাদের সনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে৷ পুলিশের তরফ থেকে সাধারণ জনগণের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে আতঙ্কিত না হবার জন্য৷ নিরাপত্তা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং তা জারী রয়েছে৷ পুলিশের এই অভয়বার্তা সাধারণ জনগণের মধ্যে কোন প্রভাবই ফেলছে না৷ এলাকার জনগণ বাড়িঘর থেকে বেরিয়ে দূরে কোথায় যাচ্ছেন না৷ ছেলে মেয়েদের বাড়ির বাইরে যেতে দিচ্ছেন না৷ রাবার বাগানে কাজ করতে যাচ্ছেন না কোন মানুষ৷ এক আতঙ্কের পরিবেশ কায়েম হয়ে রয়েছে গোটা বিশ্রামগঞ্জ এলাকায়৷
অন্যদিকে, লংতরাইভ্যালীতেও জঙ্গী আতঙ্ক বিরাজ করছে৷ জানা গিয়েছে, ছাওমনু থানার অধীন জোয়ালাবস্তি ও হরিয়ামণি রোয়াজা পাড়া দিয়ে জঙ্গীরা বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে৷ নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন এনএলএফটির নেতা সেরভাইয়ের নেতৃত্বে কুড়ি জনের একটি জঙ্গীদল কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে চট্টগ্রামের ভুটাংবস্তি এলাকায় অবস্থান করছে৷ যদিও সীমান্ত এলাকায় কর্তব্যরত রয়েছে বিএসএফ জওয়ানরা৷ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ঐ জঙ্গীদলটিকে রাজ্যে অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য মাঠে তৎপর রয়েছে দলেরই এক আত্মসমর্পণকারী জঙ্গী৷ ওভার গ্রাউন্ডে সে কাজ করছে বলে খবর৷ মাছলির শিববাড়ীর ১১ কিলো এলাকার ঐ আত্মসমর্পণকারী একটি দোকান চালাচ্ছে৷ জানা গিয়েছে, ঐ আত্মসমর্পণকারী জঙ্গী ছাওমনুর জোয়ালাবস্তি এবং হরিয়ামণি রোয়াজা পাড়ার জনগণকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে৷ চাঁদার নোটিশ ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে৷ অভিযোগে জানা গিয়েছে, কয়েকজন জুম ক্ষেতে গিয়েছিলেন চাষাবাদ করার জন্য৷ তাদের হাতে চাঁদার নোটিশ তুলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল৷ গ্রামবাসীরা সেখান থেকে পালিয়ে এসেছেন৷ ভয়ে আর জুম ক্ষেতে কাজ করতে যাচ্ছেন না৷ ওপাড়ে অবস্থানরত জঙ্গীরা অনুপ্রবেশ করতে পারলে লংতরাই ভ্যালীর থালছড়া, লালছড়া, গন্ডাছড়া, গঙ্গানগর ইত্যাদি স্থানে জঙ্গীরা অবস্থান করতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে৷ এলাকাবাসী অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবী জানিয়েছেন৷ প্রসঙ্গত, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে টিএসআর ক্যাম্পগুলি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল জঙ্গী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে দাবি করে৷ কিন্তু, এখন ভোটের মুখে জঙ্গীদের কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সেইসব স্থানে পুনরায় টিএসআর ক্যাম্প স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে দাবি তথ্যাভিজ্ঞ মহলের৷
2017-04-12

