নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৫ এপ্রিল৷৷ চাকুরীচ্যুত শিক্ষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারও৷ রাজ্য

সরকার যেহেতু তাঁদের চাকুরী দিয়েছে এবং এখন পর্যন্ত তাঁরা তাঁদের কাজ দায়িত্ব নিয়ে করেছেন, ফলে চাকুরীচ্যুত শিক্ষকদের ভেসে যেতে দেবো না৷ বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে ঠিক এই ভাষায় চাকুরীচ্যুত শিক্ষকদের স্বপ্ণ ফেরী করলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ পাশাপাশি জানালেন, কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের কাছে টেট’র নিয়ম শিথিল করার জন্য আর্জি জানানো হবে৷ তবে, ঠিক কি পন্থা অবলম্বন করে চাকুরীচ্যুতদের দায়িত্ব নেবে রাজ্য সরকার, সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে কিছুই জানাননি৷ বরং অপেক্ষা করার জন্য তিনি পরামর্শ দিয়েছেন৷
এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ১০৩২৩ জন শিক্ষকের চাকুরীচ্যুতির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷ বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেন, আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের শিক্ষকদের চাকুরী মামলায় স্পেশাল লীভ পিটিশনকে প্রত্যাখান করে গত ২৯ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায় দিয়ে আলোচনা হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের এই রায় অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন৷ তাঁর বক্তব্য, এতে নানা ধরনের সমস্যা ও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে৷ কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই দিয়েছে৷ তা অমান্য করা যাবে না৷ তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে তা কার্যকর করা হবে৷ এজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷ শিক্ষামন্ত্রী ইতিমধ্যেই তার তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন৷ তিনি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন৷ তাঁকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ তাতে, রায় অনুসারে, ৩১ মে’র মধ্যে শিক্ষক পদে শূণ্যপদ পূরণে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে এবং ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সমাপ্ত করতে হবে৷ পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যে ১০৩২৩ জন শিক্ষক শিক্ষিকা চাকুরীচ্যুত হয়েছেন তাঁরা দীর্ঘদিন সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছেন৷ রাজ্যের শিক্ষা কাঠামো সচল রাখতে তাঁরা সচেষ্ট ছিলেন৷ তাঁরা যাতে অনিশ্চিয়তার সম্মুখীন না হন, সেজন্য সরকার তাঁদের পাশে থাকবে৷ তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখার জন্য সরকার চিন্তা ভাবনা করছে৷ মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে জানান, চাকুরীচ্যুত শিক্ষকদের আমরা ভেসে যেতে দেবো না৷
কিন্তু, তাঁদের পাশে কিভাবে থাকবে রাজ্য সরকার, তার সুস্পষ্ট দীশা মুখ্যমন্ত্রী দেখাননি৷ কেবল জানিয়েছেন, আপাতত কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের কাছে টেট’র নিয়মাবলী শিথিল করার জন্য আর্জি জানানো হবে৷ কারণ, ইতিমধ্যে দুটো টেট’র পরীক্ষা হয়েছে৷ তাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থী পাওয়া যায়নি৷ যারা টেট উত্তীর্ণ হয়েছেন তাদের শিক্ষক পদে চাকুরী দেওয়া হয়েছে৷
ফলে, ১০৩২৩ জন চাকুরীচ্যুত শিক্ষক এবং বঞ্চিত বেকাররা শিক্ষক পদে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করবেন৷ তাতে, টেট’র নিয়মাবলী শিথিল করা না হলে প্রয়োজনীয় শিক্ষক পাওয়া সম্ভব হবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন৷ ফলে, প্রশ্ণ থেকেই যাচ্ছে, রাজ্যের আবেদনে কেন্দ্র কতটা সাড়া দেবে৷ কারণ, ইতিমধ্যে একবার রাজ্যকে শিক্ষক নিয়োগে ছাড় দেওয়া হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রীর মতে, দেশের অনেক রাজ্য শিক্ষক নিয়োগে নিয়মাবলীতে ছাড় পেয়েছে৷ রাজ্যও পেয়েছে৷ তা সত্বেও অনেক রাজ্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নতুন নিয়মাবলীর কারণে পাওয়া যাচ্ছে না বলে আবারও ছাড় দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে৷ বিষয়টি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে৷ সবমিলিয়ে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে জটিলতা খুব সহজে মিটবে না বলে মনে করছে তথ্যভিজ্ঞ মহল৷

