News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • ১০৩২৩ জন শিক্ষকের ভাগ্য নিয়ে ফের ভুল পথ নিচ্ছে রাজ্য সরকার
Image

১০৩২৩ জন শিক্ষকের ভাগ্য নিয়ে ফের ভুল পথ নিচ্ছে রাজ্য সরকার

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩১ মার্চ৷৷ সুপ্রিম কোর্টেও ১০৩২৩ জন শিক্ষকের চাকুরী বাতিলের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের হুবহু কপি

রিভিউ পিটিশন দাখিল করার চিন্তা ভাবনা শুরু করেছে৷ আইন দপ্তর এবং শিক্ষা দপ্তরের শীর্ষ আধিকারীকরা মিলে রায়ের খঁুটিনাটি দিকগুলি নানাভাবে পর্যালোচনা করে দেখছেন৷ তাতে আইন দপ্তরের জনৈক শীর্ষ আধিকারীক জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন দাখিল করা যেতে পারে৷ ঐ আধিকারীক জানান, সমস্ত বিকল্প ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ আপাতত যা মনে হচ্ছে সেই মোতাবেক নয়া ঘোষিত বিধি অনুযায়ী উপযুক্ত যোগ্যতা যাদের নেই সেই শিক্ষকদের চাকুরী বাতিল হবেই৷ কিন্তু যারা উপযুক্ত যোগ্যতা নিয়ে চাকুরী করছেন তাদেরও চাকুরীর জন্য পুণরায় আবেদন করতে হবে৷ এক্ষেত্রে একই স্তরে চাকুরীর জন্য তারা আবেদন করতে পারেন না বলে ঐ আধিকারীক মনে করেন৷ এজন্য উচ্চ পদ সৃষ্টি করতে হবে৷ আর তাতে অনেক জটিলতাও রয়েছে তা তিনি জানিয়েছেন৷ রাজ্য সরকারের আইন দপ্তর এবং শিক্ষা দপ্তরের আধিকারীকদের এই চিন্তাভাবনা রাজ্য সরকারকে আবারও বিপদের মুখে ঠেলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ কারণ, সুপ্রিম কোর্ট রায়ে স্পষ্ট উল্লেখ করেছে, এই মামলায় বাদি ও বিবাদী পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ত্রিপুরা হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ করার কোন কারণ খঁুজে পাওয়া যায়নি৷ তবে, উচ্চ আদালতের রায়ের অনুচ্ছেদ ১২৩’এ যা বলা হয়েছে তাতে কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে৷ উচ্চ আদালতের রায়ের অনুচ্ছেদ ১২৩’এ বলা হয়েছিল ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৪ সালের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগে প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন করে বাছাই প্রক্রিয়া সমাপ্ত করতে হবে৷ মামলা চলাকালীন যে বিষয়গুলি উঠে এসেছে তার ভিত্তিতে রায় ঘোষণার দুই মাসের মধ্যে রাজ্য সরকারকে নতুন নিয়োগ নীতি প্রণয়ন করতে হবে সেই নিয়োগ নীতি অনুসারে ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৪ এর মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সমাপ্ত করতে হবে৷ আদালত রায়ে বলেছে, যখন মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে আসে তখন উচ্চ আদালতের রায়ের অনুচ্ছেদ ১২৩’এ যে রায় ছিল তা ৪ আগষ্ট, ২০১৪ সালে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছিল৷ কিন্তু, আদালত সেই রায়ে হস্তক্ষেপ করার কোন কারণ খঁুজে পায়নি৷ তাই উচ্চ আদালতের রায়ের অনুচ্ছেদ ১২৩’এ এখন কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে৷ তাই সর্বোচ্চ আদালত রায়ে বলেছে, নতুন নিয়োগ নীতি ৩০ এপ্রিল, ২০১৭ এর মধ্যে প্রণয়ন করতে হবে যদি আগে প্রণয়ন না করা হয়ে থাকে এবং ৩১ মে, ২০১৭ এর মধ্যে শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণের বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে৷ নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭ এর মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঐ শিক্ষকরা চাকুরীতে বহাল থাকবেন৷ বঞ্চিত প্রার্থীরা যারা আগে চাকুরীর জন্য আবেদন জানিয়েছিলে তারা এবং ১০৩২৩ জন শিক্ষক নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদন জানাতে পারবেন যদি তাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকে৷ এক্ষেত্রে উভয়কেই বয়সের ছাড় দেওয়া যেতে পারে৷ নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯ সহ নতুন শিক্ষা নীতি অনুসরণ করতে হবে৷ ৯ম শ্রেণী ও তার উর্দ্ধের শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি কঠোরভাবে নজরে রেখেই করতে হবে যা নির্দ্ধারিত শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯ এবং নয়া শিক্ষা নীতি মোতাবেক৷ এই পরিবর্তনগুলি অনুসারে এই মামলায় ত্রিপুরা হাইকোর্টের রায় বহাল রাখা হল এবং স্পেশাল লিভ পিটিশানগুলি খারিজ করা হল এবং সেই সঙ্গে সমস্ত ধরনের আবেদন খারিজ করা হয়েছে৷
এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে আইনজ্ঞদের মতে কোনভাবেই নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিযুক্ত করা ছাড়া অন্য কোন রাস্তা খোলা নেই৷ আইন দপ্তর এবং শিক্ষা দপ্তরের আধিকারীকরা যা চিন্তাভাবনা করছেন তার সাথে বাস্তবের কোন মিল নেই৷ আইনজ্ঞদের বক্তব্য, এখনই সমস্ত শিক্ষকদের চাকুরী বাতিল করে দিলে রাজ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিপর্য্যয় নেমে আসবে৷ সেই চিন্তা করে সর্বোচ্চ আদালত ঐ শিক্ষকদের দিয়েই চলতি শিক্ষাবর্ষ চালানোর সুযোগ দিয়েছে৷ কিন্তু, এর মানে এই নয় যে তাদের চাকুরী সুরক্ষিত রয়েছে৷ বস্তুত সুপ্রিম কোর্টের রায়ে শিক্ষকদের চাকুরী বাতিল হয়েছে৷ এই ক্ষেত্রে ঐ শিক্ষকদের যারাই যোগ্য তারা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদন করার ক্ষেত্রে কোন আইনী বাধার মুখে পড়বেন না৷ সুপ্রিম কোর্ট রায়ে সেই কথাও স্পষ্ট করেছে৷ ফলে, এই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন জমা দেওয়া যাবে বলে সরকারী আমলারা যে যুক্তি তুলে ধরেছেন তাতে রাজ্য সরকার সায় দিলে আবারও ভুল পথে পা পাড়াবে৷ তবে, একথাও উঠে আসছে যে, সামনে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন, তাই রিভিউ পিটিশন দাখিল করে সময় নষ্ট করা যায় কিনা সেটাই ভাবছে শাসক দল৷ বরিষ্ট আইনজীবী সন্দীপ দত্ত চৌধুরী বলেন, রিভিউ পিটিশন দাখিল করে কেবলমাত্র ভোট বৈতরণী পাড় হওয়ার কৌশল নেওয়া হচ্ছে৷

Releated Posts

অনুরাগ ধনকরের মৃত্যু নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর ‘হস্তক্ষেপের’ প্রতিবাদে কংগ্রেসের মিছিল

আগরতলা, ৩ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার আগরতলায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। পুলিশপ্রধান অনুরাগ ধনকরের মৃত্যুর…

ByByReshmi Debnath Sep 3, 2026

ডেপুটেশন ঘিরে কৈলাসহর কলেজে দুই ছাত্র সংগঠনের সংঘাত, অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ

কৈলাসহর, ২ সেপ্টেম্বর: ডেপুটেশন দেওয়াকে কেন্দ্র করে কৈলাসহর কলেজে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ত্রিপ্রা ইন্ডিজিনিয়াস…

ByByReshmi Debnath Sep 2, 2026

ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনে বিলোনিয়ায় সিপিআই(এম)-এর ২১ প্রার্থীর মনোনয়ন জমা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিলোনিয়া, ২ সেপ্টেম্বর: আসন্ন ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণ ত্রিপুরার তিনটি ব্লকে মোট ২১টি আসনে…

ByByReshmi Debnath Sep 2, 2026

প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করছে ত্রিপুরা, নজরদারিতে ৫১৫ সিসিটিভি

আগরতলা, ৩১ আগস্ট: ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ও সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করছে ত্রিপুরা…

ByByTaniya Chakraborty Aug 31, 2026
Scroll to Top